সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

অফসিজনের তরমুজ চাষে লাভের আশায় ড়ুমুরিয়ার চাষীরা

দিগন্ত জোড়া মাঠ ,রাস্তার দুই ধার দিয়ে যে দিকে চোখ যায় সে দিকে যেন সবুজের সমারহ। খুলনা –সাতক্ষীরা সড়কের চুকনগর বিলে পাশদিয়ে যেতে মৎস্য ঘেরের পাড়ে চাষ করা হয়েছে গ্রীস্মকালীন শিম,অফসিজনের তরমুজ। বাঁশ, তারের মাচায় দক্ষিণা বাতাসে দুলছে শিমের ফুল ও তরমুজ।

ডুমুরিয়া উপজেলায় মৎস্য চাষীরা বর্তমান করোনা কালিন ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।সমন্বিত মৎস্য চাষের গুরুত্ব দিয়ে নানা মুখী চাষাবাদ করছে। প্রতি ইঞ্চি জায়গার সঠিক ব্যবহারের জন্য সর্বদা কাজ করে চলেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সূর্য সন্তান বাংলার কৃষক। মৎস্য চাষের সাথে শশা
, শিম, লাউ, তরমুজ সহ নানা রকম ফসল চাষের আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

শীতকাল নয়, গ্রীষ্মকালেও শিম, অফসিজনের তরমুজ চাষ হচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন শিম, অফসিজনের তরমুজ চাষে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন ড়ুমুরিয়ার কৃষকেরা। বর্তমানে প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা
দরে এবং তরমুজ প্রতিকেজি বিক্রয় হচ্ছে ৩০-৫০ টাকা কেজি দরে। উচ্চ ফলনশীল আরলি-৩৫, স্থানীয় পোর্ট, বারি-১ জাতের শিম, পাকিজা, এশিয়ান-২,থাইল্যান্ড-২, সুপার ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষে বীজ, সার রক্ষণাবেক্ষণ ও চাষাবাদে তদারকি করছে ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, উচ্চ মূল্যের ফসলের মধ্যে শিম ও তরমুজের বাজার মূল্য ভালো। এ কারণে কৃষকদের শিম ও তরমুজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। শিম বীজ জুন মাসে বীজ রোপন করা হয় এবং তরমুজ বীজ সাধারণত ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাস ছাড়া অন্য রোপন করা হয় । আগষ্টের প্রথম দিকে শিম বিক্রয় করা শুরু হয় এবং তরমুজ বীজ রোপনের চল্লিশ দিনের মধ্য বিক্রয় করা শুরু হয়। উপজেলার
চুকনগর, বরাতিয়া, কুলবাড়িয়া, মঠবাড়ি, খর্নিয়া, শাহপুর এলাকায় ব্যাপক ভাবে ঘেরের পাড়ে গ্রীস্মকালীন শিম ও অফসিজনের তরমুজ, শশা চাষ হয়েছে।

সরেজমিনে ডুমুরিয়ার উপজেলার ৫ নং আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর গ্রামে শিম ও তরমুজ চাষি
মেহেদি হাসান বাবলু কে মৎস্য ঘেরে দেখা যায়, শিম ও তরমুজ খেত পরিচর্চায় ব্যস্ত সময়
পার করছেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদক কে বলেন, আমি ১৫ বিঘা ঘেরের প্রায় ৩বিঘা সমপরিমান পাড়ে গ্রীস্মকালীন শিম ও অফসিজনের তরমুজ চাষ করেছি। শিম ও তরমুজে ফলন আসতে শুরু করেছে বাজার দর ভাল।

মাছ চাষে করোনা কালিন যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলাম তা হয় তো কিছুটা কাটিয়ে ওঠতে পারবো বলে আশা করছি। তিনি বলেন বৃষ্টির কারণে পানি সরবারহ সঠিক ভাবে না হওয়ায় কিছুটা ফসলের ক্ষতি হয়েছে ।ইচ্ছামত ঘের নির্মান সরকারি খাল দখল হওয়ার কারণে বৃষ্টির পানি সঠিক ভাবে নদীতে প্রবাহিত না হওয়ার কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আগামীতে সরকারী খাল দখল মুক্ত করে পানি সরবারহ করার জন্য প্রয়োজনীয়
পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে অনুরোধ করছি ।

মঠবাড়ী গ্রামের আহাদ মোড়ল প্রতিবেদক কে বলেন, আমি আমার ১৬ বিঘা মৎস্য ঘেরে
করোনা কালিন সময়ে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের কোন দপ্তর হতে কোন
প্রকার সহযোগিতা এখনও পর্যন্ত পাইনি। ক্ষতি কাটিয়ে ওঠান জন্য ঘেরের ১২শত হাত ভেড়িতে
সবজি চাষ শুরু করি, কিন্তু লবণাক্ত মাটি হওয়ায় ফসল ভাল হয় না।

সর্বশেষ অফ সিজনের তরমুজ চাষ শুরু করি ,গাছে ভাল ফল ধরেছে ,আশা করছি সবকিছু যদি অনুকুলে থাকে তবে এবার লাভ হবে ।তিনি বলেন আমি নিজ থেকে অফ সিজনের তরমুজ চাষ করছি ,কৃষি অফিস যদি আমাদের সঠিক পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে তবে আগামীতে আমরা অফ সিজন তরমুজ চাষে আরও বেশি লাভবান হব এবং অনেক কৃষক তরমুজ চাষে আগ্রহী হবে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো: মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, প্রতিবেদক কে বলেন,
শিম মূলত শীতকালীন ফসল, কিন্তু গ্রীস্মকালীন শিম চাষ লাভ ভাল হওয়া কারণে ,বাজারে ভাল
চাহিদা থাকার কারণে শিম চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে। গ্রীষ্মকালীন ফল তরমুজ। সাধারণত
ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত গরমকালে সুস্বাদু তরমুজ বাজারে পাওয়া যায়। তবে এখন আর
এটি মৌসুমি ফল নয়।

ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাস বাদে বছরের প্রায় সকল সময়ে চাষ হচ্ছে অফ সিজনের তরমুজ। বিদেশী জাতের এই তরমুজ যেমন সুস্বাদু ও গুণাগুণ সম্পন্ন তেমনি উচ্চফলনশীল। অসময়ে পাওয়া যায় বলে দাম একটু বেশি। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। বর্তমানে কৃষি বিভাগের সাফল্যের কারণে বাজারে বারো মাস সবজি ও ফল পাওয়া যাচ্ছে।তার তথ্য মতে, খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ঘেরের পাড়ে গ্রীষ্মকালীন জাতের শিম এবং ২৫০ হেক্টর জমির ঘেরের পাড়ে অপসিজনের তরমুজ চাষ হচ্ছে।।

বাজারে যার বর্তমান মূল্য প্রতি কেজি ১০০-১২০ টাকা শিম এবং তরমুজ প্রতিকেজি ৩০-৫০ টাকা করে। এতে কৃষকরা ভালো লাভবান হচ্ছে। গত বছর অফ সিজন সবজি চাষে সুফল পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা আরো বেশি আগ্রহী হয়েছেন।তিনি বলেন যেকোনো ধরনের সমস্যায় উপজেলা কৃষি অফিস সর্বদা কৃষকের পাশে আছে।

কোমল রাহা, ডুমুরিয়া,খুলনা:-

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles