রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২১

আর্কটিকের বরফের নিচের পাওয়া গেলো তেল-গ্যাস আশীর্বাদ না অভিশাপ?

রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলে যে পরিমাণ তেল আর গ্যাসের মজুদ আছে, তা রাশিয়ার আরো ১০০ বছরের প্রয়োজন মেটাবে।

দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী আলেক্সান্ডার নোভাক জানান, আর্কটিক জোনে সম্পদে পরিপূর্ণ। এখানে ১ হাজার ৫০০ কোটি টন তেল আর ১০০ ট্রিলিয়ন কিউবিক মিটার গ্যাস আছে। টানা কয়েক দশক এই তেল আর গ্যাস রাশিয়াকে সমৃদ্ধ করে রাখবে।

কিন্তু এই সম্পদ তুলে আনতে খরচও অনেক বেশি। খরচ বেশি হওয়ায় প্রকল্পগুলোতে কর ছাড়, বিনিয়োগে মুনাফা আর ভর্তুকিও দিচ্ছে রুশ সরকার। কয়েকটি জ্বালানি কোম্পানি বলছে, আর্কটিকের পার্মাফ্রস্টের নিচে ১৬০ কোটি ব্যারেল তেল থাকতে পারে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা আর জীববৈচিত্র্য স্বাভাবিক রাখতে আর্কটিক অঞ্চলের ভূমিকার শেষ নেই। এই বরফে ঘেরা অঞ্চলের ওপর নির্ভর করে অনেক প্রাণির বাস্তুসংস্থান। তেল আর গ্যাস উত্তোলনের জন্য এই অঞ্চলে খনন করা হবে কিনা, এ নিয়ে ৪০ বছর ধরে দ্বিধায় ভুগছেন রাজনীতিবিদরা।
আর পরিবেশবিদরা তো বরাবরই এর বিপক্ষে। কারণ বিলুপ্তপ্রায় আর বিশ্ব উষ্ণায়নে বিপদগ্রস্ত প্রাণিগুলোর আবাসস্থল ধ্বংস হওয়ার সম্ভাবনা আছে আর্কটিক ড্রিলিং হলে। অন্তত ২০০ প্রজাতির বিপন্ন প্রাণির আবাস এই আর্কটিক।

জ্বালানি তেল গ্যাস কোম্পানিকে আর্কটিকে ড্রিলিংয়ের অনুমতি দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। প্রাকৃতিক এই অঞ্চলে এখন খনন কাজ চালাচ্ছে অনেক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান। গেলো ১ বছরে আর্কটিক এলএনজি দুই প্রকল্পের আওতায় অনেক জাহাজ চলাচল করছে।

২০২৪ সাল নাগাদ, রাশিয়ার এ অঞ্চলে শিপমেন্ট বাড়ানোর পাশাপাশি ৮ কোটি টন এলএনজি উত্তোলনের লক্ষ্য আছে। ২০৩০ সাল নাগাদ এ পরিমাণ পৌঁছাতে পারে ১৫ কোটি টনে।

আর্কটিক যেন ভারসাম্য না হারায়, সেজন্য এখানে খনন কাজ পরিচালনা না করতে বিনিয়োগ করেছে অনেক আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পৃথিবীর উত্তরে অবস্থিত আরেক মেরু অঞ্চল আর্কটিক। আর্কটিক অঞ্চলের আশপাশে আছে কানাডা, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, রাশিয়া আর যুক্তরাষ্ট্র।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles