বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২১, ২০২১
সর্বশেষঃ
*রাজনৈতিক স্বার্থে একটি গোষ্ঠী ধর্মকে অপব্যবহার করে বিভাজন তৈরি করতে চায়*কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান, অস্ত্রসহ ৭ রোহিঙ্গা গ্রেপ্তার*সারা দেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস*সমুদ্রসীমায় ঢোকার সময় ভারতীয় সাবমেরিনের পথ আটকানোর দাবি পাকিস্তানের*করোনার টিকা না পেয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে প্রবাসীদের বিক্ষোভ*বিশ্বকাপে টিকে রইল বাংলাদেশ*সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহাসহ ১১ জনের রায় আগামীকাল*ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামে দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় শোভাযাত্রা*বিশ্বে কোভিড সংক্রমণ ও মৃত্যু কমেছে – ডব্লিউএইচও*ভারতে উত্তরাখণ্ডে ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় নিহত বেড়ে ৪৬

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে মহাসংকটে শিক্ষা প্রশাসন

গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের ‘অটোপাস’ দিয়ে অনেকটাই সমালোচনার মুখে পড়েছে শিক্ষা প্রশাসন। তাই আপাতত বড় কোনো পাবলিক পরীক্ষায় অটোপাসের চিন্তা তাদের নেই। এ শিক্ষার্থীদের ক্লাস না করিয়ে কোনোভাবেই পরীক্ষা নেওয়া যাচ্ছে না। আবার করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ক্লাসরুমে নেওয়ার চিন্তাও করতে পারছে না।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীরা দশম শ্রেণির ক্লাস এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস করতে পারেনি।

জানা যায়, একজন শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা। কারণ এ দুটি পরীক্ষাই বলে দেয়, একজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে কোন দিকে যাবে। ফলে দুই পরীক্ষার ৪০ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা মহাদুশ্চিন্তায় দিন পার করছেন।

আন্তশিক্ষা বোর্ডের সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, আমরা এখনো এ বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ক্লাস করিয়েই পরীক্ষা নিতে চাই। সে জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে আজকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, হয়তো কালই তা বদলাতে হচ্ছে। ফলে আমরা কবে পরীক্ষা নিতে পারব সে ব্যাপারে এখনই বলা যাচ্ছে না।

শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসএসসি এবং ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে এই সময়ে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে করোনা সংক্রমণ কমে এলে গত ৩০ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। সে পরিপ্রেক্ষিতে এসএসসি ও সমমানের জন্য ৬০ কর্মদিবস এবং এইচএসসি ও সমমানের জন্য ৮৪ কর্মদিবসের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করা হয়েছিল। কিন্তু করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আসায় আবার ২২ মে পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার বর্তমান যে অবস্থা তাতে আগামী ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যাবে কি না তা নিয়েও রয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। আর ওই সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা গেলেও আগস্ট-সেপ্টেম্বরের আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না। যদি ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না যায়, তাহলে পরীক্ষা নিতে আরো দেরি হয়ে যাবে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশলয় বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ বলেন, আমরা কোনোভাবেই অটোপাস চাই না। আগামী ২৩ মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না গেলে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তাই করতে হবে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে সরকার।

সূত্র জানায়, শুধু এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাই নয়, সব শ্রেণির ক্লাস-পরীক্ষা নিয়েই চিন্তিত শিক্ষা প্রশাসন। ফলে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে বিকল্প উপায় খুঁজতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে প্রধান করে ১১ সদস্যের কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আরো বলেন, ‘আমরা এরই মধ্যে দুটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেছি। পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কোন উপায়ে পড়ালেখা চলছে এবং কিভাবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে তা আমরা পর্যালোচনা করছি। তবে কারোনার এই সময়ে কোনো দেশই সরাসরি পাবলিক পরীক্ষা নেয়নি। আর অনলাইনে সর্বোচ্চ এমসিকিউ পরীক্ষা নেওয়া যায়; কিন্তু রচনামূলক নেওয়া সম্ভব না। আমরা আরো কয়েকটি বৈঠক করে বিকল্প কী উপায়ে পড়ালেখা চালু রাখা যায়, সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পরামর্শ পাঠাব।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles