মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১

কে কোথায় ঈদ করবেন বিএনপি নেতারা

আগামীকাল (শুক্রবার) দেশে উদযাপিত হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে আদায় হবে ঈদের নামাজ। তবে এবারের ঈদ উৎসবে আনন্দ নেই দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দীর্ঘদিন নির্বাসিত। কয়েক হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। ফলে দেশের সব মানুষের মতো বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যেও ঈদের আনন্দ নেই বললেই চলে।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত বছরের মার্চে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাসায় ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে গত ১০ এপ্রিল তিনি করোনা আক্রান্ত হন। ২৭ এপ্রিল তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ মে শ্বাসকষ্ট অনুভব হওয়ায় তাকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়। এবারের ঈদ তার হাসপাতালেই কাটছে। তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, ছোট ভাই প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিথী ও তার দুই মেয়েও ঈদ করবেন লন্ডনে।

প্রতিবছর দলীয় চেয়ারপারসনের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্যে দিয়ে ঈদ উদযাপন শুরু হয় দলীয় নেতাকর্মীদের। এবার হাসপাতালে থাকার কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ থাকছে না। তবে ঈদের নামাজের পরপরই বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে যাবেন দলটির শীর্ষ নেতারা। সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে হাসপাতালে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, এবারের ঈদ বলতে কোনো কিছু হবে না। তিনি গত ৩১ মার্চ সস্ত্রীক করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছিলেন। গত ১৩ এপ্রিল করোনামুক্ত হয়ে বাসায় ফিরলেও বেড রেস্টে আছেন। ঈদের দিন চেয়ারপারসনকে দেখতে হাসপাতালে যাবেন কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা হাসপাতাল সুযোগ দেবে কি-না তার ওপর নির্ভর করে। পুরো বিষয়টি মহাসচিব বলতে পারবেন।

জানা গেছে, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনেকে প্রতিবার ঈদের সময় নিজ নিজ এলাকায় চলে যেতেন। এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে অনেকেই ঢাকা ছাড়ছেন না।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকাতেই ঈদ করবেন। তিনি উত্তরার একটি মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। পরে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত ও হাসপাতালে গিয়ে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করবেন।

এছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আরো অনেকেয় ঢাকায় ঈদ করবেন। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামে ঈদ করবেন।

স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ দীর্ঘদিন ভারতে আছেন। অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে সেখানে তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে। তিনি জামিনে থাকলেও (ভারত) দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাকে এবারও ভারতে ঈদ করতে হচ্ছে।

দলের ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, আবদুল্লাহ আল নোমান, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মো. শাহজাহান, বরকত উল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, আরো অনেকেয় ঢাকায় ঈদ করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আমেদ, রিয়াজ রহমান, সুকোমল বড়ুয়া, আমান উল্লাহ আমান, জয়নুল আবদিন ফারুক, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, তাহসীনা রুশদীর লুনা ঢাকায় ঈদ করবেন।

দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অসুস্থ হয়ে ঢাকার শ্যামলীতে বাসায় আছেন। তিনি সেখানেই ঈদ করবেন। যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন,  সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল ঢাকায় ঈদ করবেন।

এছাড়া দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন নিজ এলাকা গাজীপুরে, নজরুল ইসলাম মনজু খুলনায়, এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, বিলকিস জাহান শিরিন ঢাকায় ঈদ করবেন। 

বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এমপি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, নির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ জনি, আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, রফিক সিকদার, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, ঢাকায় ঈদ করবেন বলে জানা গেছে।

ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন নিজ এলাকা বগুড়ার শেরপুরে ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নিজ এলাকা নরসিংদীতে ঈদ করবেন। ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন ঢাকায় ও যুগ্ম-সম্পাদক তানজিল হাসান পটুয়াখালীতে ঈদ করবেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আওয়াল ও বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন ঢাকায় ঈদ করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, শামসুদ্দিন দিদার ঢাকায় ঈদ করবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, এবছর করোনা পরিস্থিতি ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অসুস্থতার কারণে কারও মধ্যে ঈদের আমেজ নেই। ঈদ বলতে যা বুঝায় সেটা এবার হবে না। নামাজের পরে মহাসচিবসহ সিনিয়র নেতারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফাতেহা পাঠ ও দোয়া মোনাজাত করবেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles