শুক্রবার, মে ২০, ২০২২

খোশ মেজাজে সিরিজ জয় বাংলাদেশের

গতকাল দুপুরে একাডেমি মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট স্কোয়াডের কয়েকজন সদস্য যতক্ষণ গানের তালে তালে নাচছেন, ততক্ষণ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তাঁদের ওয়ানডে দলের ব্যাটসম্যানদের আরেকবার নাকানি-চুবানি খাওয়া সারা!

আরেকবার তেমন না হওয়ার কোনো কারণ নেই। যথারীতি দারুণ কার্যকরী মুস্তাফিজুর রহমান ও সাকিব আল হাসান। আর যাঁর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাওয়ায় দলে জায়গাই নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছিল, সেই মেহেদী হাসান মিরাজও প্রথম ওয়ানডে সাকিবের মতোই সফল। ২৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংই শুধু করলেন না, হলেন ম্যাচের সেরাও।

যদিও আগের ম্যাচের মতো কাল আকাশ ভালোই ছিল সারা দিন। ঝলমলে রোদ পাওয়া উইকেটে গত ম্যাচের মতো বল টার্নও করেনি তেমন একটাও । মুস্তাফিজ-সাকিব-মিরাজরা ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানদের কাছে সহজবোধ্যও হয়ে ওঠেননি। ক্যারিবীয় দলের সীমাও এ জন্য খুব একটা বাড়তে পারেনি। আগের ম্যাচে ১২২ রানে গুটিয়ে যাওয়া দলটি এবার পার হতে পারল না দেড় শও।

তাদের ১৪৮ রানে শেষ করে দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয় যখন কেবলই সময়ের ব্যাপার হয়ে উঠেছে, তখনই আরেকটি ‘প্রথম’ কাণ্ড ঘটানো হয়ে গেছে স্বাগতিকদের। ওয়ানডেতে এই প্রথম এক সিরিজে কোনো দলকে টানা দুই ম্যাচে দেড় শর নিচে আটকাল তারা। আটকানোর পর এবার ওড়ার পালা। অধিনায়ক তামিম ইকবালের ফিফটি এবং ব্যাট হাতে সাকিবের ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দেওয়া ইনিংসে ১০০ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের অনায়াস জয়। যা ওয়ানডেতে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টানা সপ্তম জয়।

অধিনায়ক হিসেবে প্রথম সিরিজ জেতার পথে ধারাবাহিক তামিমও। আগের ম্যাচে ৪৪ রান করা এই বাঁহাতি ওপেনার এবার অধিনায়ক হিসেবেও পেলেন প্রথম ফিফটির দেখা। তবে তাঁর ওপেনিং পার্টনার লিটন কুমার দাস (২৪ বলে ২২) ভালো শুরু করেও ইনিংস বড় করতে পারেননি।

অন্যদিকে নিজের ব্যাটিং দিয়ে দারুণ দায়িত্বশীলতা দেখাচ্ছিলেন তামিম। ৭৫ বলে ফিফটি করার পরই অবশ্য রেমন রেইফারের বলে আওউত হয়েছেন। এরপর মুশফিকুর রহিমকে (৯*) নিয়ে বাকি পথটা সহজেই পাড়ি দেন সাকিব। চার বাউন্ডারিতে ৫০ বলে ৪৩ রানের হার না মানা ইনিংসে জানালেন, ব্যাটের ছন্দও ধরতে শুরু করে দিয়েছেন।

বোলিংয়ে সেটি ধরেছেন আগের ম্যাচেই। এবারও প্রথম ওভারেই শিকার ধরে শুরু। এর আগে যথারীতি ভেতরে ঢোকানো বলে ক্যারিবীয় ওপেনার সুনীল আমব্রিসকে ফিরিয়ে ক্যারিবীয়দের আরেকবার চেপে ধরা শুরুও মুস্তাফিজের বোলিংয়েই। সাকিব আক্রমণে আসার আগেই শিকার ধরা শুরু করে দিয়েছিলেন মিরাজও।

আম্পায়ারের ভুলে পুরো ৮ ওভার বোলিং করা হয়নি মুস্তাফিজের। এর মধ্যেই তিনটি মেডেনসহ মাত্র ১৫ রান খরচায় ২ উইকেট তাঁর। ৩০ রানে সমানসংখ্যক উইকেট সাকিবেরও। সেই সঙ্গে নিজের সেরা ছাপিয়ে যাওয়া বোলিংয়ে উজ্জ্বল মিরাজের যোগফলে ছিন্নভিন্ন ক্যারিবীয় ব্যাটিং। পাশের মাঠে নেচে-গেয়ে সতীর্থদের এমন ব্যর্থতা ভুলে থাকার চেষ্টাই কি করছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টেস্ট দলের সদস্যরা? এ প্রশ্ন থেকেই যায় মাদের মাঝে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
3,320FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles