সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

চলমান ও তলবি ঋণ পরিশোধে বিশেষ সুবিধা

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলায় এবার চলমান ও তলবি ঋণ পরিশোধেও বিশেষ সুবিধা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সুবিধার আওতায় ২০২০ সালের চলমান ঋণের বকেয়া সুদ আগামী ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহক। এ সময় পর্যন্ত সুদ নিয়মিত পরিশোধ করলেই গ্রাহককে খেলাপি করা যাবে না। পাশাপাশি গত বছরের তলবি ঋণের কিস্তি আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এসংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বহির্বিশ্বেও নেতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি বাণিজ্য কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমন অবস্থায় করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা এবং ব্যাংকিং খাতের ঋণপ্রবাহের গতিধারা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সার্কুলার অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে আরোপিত সুদ বকেয়া থাকলে চলতি বছরের মার্চ থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে ছয়টি সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। একই সঙ্গে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত যে সুদ আসে, তাও ত্রৈমাসিক কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। আর ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত আরোপিত সুদ ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত হলে গ্রাহকের নেওয়া ঋণ এ সময় পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে না। আগে চলমান ঋণের কিস্তি প্রতি মাসে পরিশোধ করতে হতো। অন্যদিকে তলবি ঋণ চলতি মার্চ থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আটটি ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। এভাবে পরিশোধ হলে খেলাপি করা যাবে না। তবে গ্রাহকরা কোনো ত্রৈমাসিকে কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিশেষ সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। তখন ওই ঋণকে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করতে পারবে ব্যাংকগুলো। করোনার কারণে সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে গত এক বছর ঋণের কিস্তি না দিলেও কোনো গ্রাহক খেলাপি হননি। তবে চলতি বছরের জানুয়ারি  থেকে এই ছাড় তুলে নেওয়া হয়। আর মেয়াদি ঋণের কিস্তি পরিশোধে ‘বিশেষ’ সুবিধা ঘোষণা করা হয়। ওই সার্কুলারে বলা হয়, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বরের সার্কুলারের মাধ্যমে অর্থনীতিতে কভিড-১৯-এর নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় ঋণগ্রহীতার ওপর এর প্রভাব সহনীয় মাত্রায় রাখতে গত বছর জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সব ধরনের ঋণ শ্রেণীকরণে ডেফারেল সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, যা এ বছর ১ জানুয়ারি থেকে আর বর্ধিত না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে ঋণের কিস্তি পরিশোধ সহজ করার লক্ষ্যে ১ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে বিদ্যমান অশ্রেণীকৃত ঋণগ্রহীতার ওপর কভিড-১৯-এর প্রভাব এবং ঋণের বকেয়া স্থিতির পরিমাণ বিবেচনায় ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে কেবল মেয়াদি ঋণ হিসাবের অবশিষ্ট মেয়াদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ সময় বৃদ্ধি করা যাবে। তবে বর্ধিত সময়সীমা কোনোভাবেই দুই বছরের বেশি হবে না। উদাহরণস্বরূপ কেউ ৬০ কিস্তিতে পরিশোধ করার শর্তে একটি ঋণ নিয়েছিলেন। কভিড-১৯-এর বিশেষ ছাড়ের আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩০ কিস্তি শোধ করেছেন, বাকি যে ৩০ কিস্তি শোধ করেননি, তা এখন ৪৫ কিস্তিতে পরিশোধ করতে পারবেন। তবে এই ৪৫ কিস্তি পরিশোধে নির্ধারিত যে সময়সীমা ছিল, এখন সেই সময়ের অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ সময় পাওয়া যাবে। এই সময় কোনোভাবেই দুই বছরের বেশি হবে না।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles