সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

চাহিদা মতো পুলিশকে টাকা না দেয়ায় রাতভর ভোগান্তির শিকার শতাধিক ধানকাটা শ্রমিক

চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় রাতভর ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন শতাধিক ধান কাটা শ্রমিক।

শুক্রবার জেলা কৃষি অফিসের অনুমতিপত্র নিয়ে দুটি ট্রাকে করে পাবনা থেকে হবিগঞ্জে ধান কাটতে যাচ্ছিলেন  তারা। তবে পুলিশ এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন কঠোর বিধিনিষেধ মানাতেই ট্রাক আটকে দেয়া হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ তাদের বহনকৃত দুটি ট্রাক আটকে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

রবিউল অভিযোগ করে বলেন,এই বৃদ্ধ বয়সে শুধুমাত্র পেটের দায়ে বিদেশের বাড়িতে ধান কাটতে যাচ্ছি। যদি আটকেই দিবে তখন এলাকাতেই আটকে দিতো। থানা, পুলিশ, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তো আমরা ধান কাটতে যাচ্ছি নাকি। এই বৃদ্ধ বয়সে কয় বেলা না খেয়ে থাকা যায়?।সেখানেই না হয় পরিবারের সাথে না খেয়ে মরবো।’

কঠোর বিধিনিষেধে সব কিছু বন্ধ থাকায় তার মতো আরো ১২০ জন কৃষি শ্রমিক রাতভর নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন। তারা বলেন, পাবনা থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে কোন সমস্যা হয়নি। এসময় টাকা দাবি করে টাকা দিতে না পারায় ট্রাক দুটি থানার সামনে নিয়ে আসে। রাতে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিতে ভিজতে হয়েছে। না খেয়ে রাত থেকে কষ্ট করতে হচ্ছে। পায়খানা-প্রসাবের জায়গা না থাকায় কষ্ট আরো কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

তারা আরো বলেন কাজ না থাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছিলাম। তাই আমাদের উপজেলা কৃষি অফিসার ও চেয়ারম্যানের প্রত্যায়নপত্র নিয়ে ধান কাটতে হবিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলাম। পুলিশ আমাদের অনুমতিপত্র জব্দ করে রেখেছে।ট্রাকচালক উজ্জল মিয়া বলেন,গতকাল বিকেলে পাবনা থেকে রওনা দিয়েছি।পরে অপর এক পুলিশ অফিসার এসে শ্রমিকসহ ট্রাক ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। গাড়ির কাগজপত্র পুলিশ জব্দ করেছে।

পাবনা সদর কৃষি অফিসার হাসান রশিদ হোসাইনী বলেন, তাদের অনুমতিপত্র দেওয়া আছে। তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে রিকুয়েস্ট করেছি। পুলিশ হয়তো বা আইনগতভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু মাবনিক দৃষ্টিতে কাজটি তেমন ভাল হয়নি। আরেকটি বাস ব্যবস্থা করে পুলিশ তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সহযোগিতা করতে পারতেন।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইয়াসির আরাফাত টাকা দাবির বিষয়টি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন,শ্রমিকরা একটি ট্রাকে ৪৮ ও অপর ট্রাকে ৭২ জন শ্রমিক বহন করছিলো। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে তারা গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। এছাড়া গতকাল মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাক দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে সরকারি কঠোর বিধিনিষেধের আদেশ পরিপন্থী কাজ করায় তাদের ট্রাক আটক করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৫ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও গন্তব্যে যেতে পারেনি শ্রমিকরা।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles