শুক্রবার, জানুয়ারি ১৪, ২০২২

ঝড়-বৃষ্টি না হওয়ায় খুশি কৃষক

করোনায় যখন সর্বত্র অস্থিরতা, তখন সুনামগঞ্জের হাওরে চলছে অন্য রকম উৎসব। শ্রম–ঘামে ফলানো সোনার ধান গোলায় তোলার এ উৎসব। দিনভর ধান কাটা, মাড়াই ও শুকাতে ব্যস্ত কৃষক পরিবারের লোকজন। এবার আবহাওয়া ভালো। ঝড়-বৃষ্টি কম।নেই আগাম বন্যার শঙ্কা। সব মিলিয়ে একটা ভালো বছর পেয়েছেন কৃষকেরা। এখন খুশি মনে ধান গোলায় তুলছেন তাঁরা।

সুনামগঞ্জের ১৫৪টি ছোট-বড় হাওরে বোরো ধানের আবাদ হয়। ধান লাগানোর পর মাঝামাঝি সময়ে বৃষ্টি হলে ফলন ভালো হয়।তবে এতে কৃষকদের কোনো আক্ষেপ নেই। সবকিছুর পর এবার তেমন কোনো ঝামেলা ছাড়াই ফসল তুলতে পারায় একটা স্বস্তি আছে তাঁদের মনে। তাঁরা বলছেন, এভাবে আর ১৫ দিন সময় পেলে হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার খরচার হাওরপাড়ের রাধানগর গ্রামের বড় কৃষক হাফিজ উদ্দিন (৬০)। হাওরে তাঁর জমি আছে প্রায় ২০ একর। এখন পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে ১২ একরের। মধ্য দুপুরে বৈশাখের কড়া রোদ মাথায় নিয়ে মাঠে ধান মাড়াই ও শুকানোর কাজ তদারক করছিলেন তিনি। হাফিজ উদ্দিন জানান, গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এবার এ সময়ে আবহাওয়া অনেকটা ভালো থাকায় কৃষকেরা নির্বিঘ্নে ধান গোলায় তুলতে পারছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪ মেট্রিক টন। এখন পর্যন্ত ধান কাটা হয়েছে ৩০ শতাংশ।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদের মুখে হাসি দেখতে চাই। এ জন্য তাঁদের সঙ্গে মাঠেই আছি। যখন যা লাগবে, সেটির ব্যবস্থা করা হবে। অন্য জেলা থেকে শ্রমিক আনা হয়েছে। মাঠে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের বেশ কিছু যন্ত্র আছে। আমাদের কথা হলো, পাকা ধান কোনো অবস্থাতেই জমিতে রাখা যাবে না। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে আছে। এই মাস এভাবে থাকলে হাওরের ৯০ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles