রবিবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২১

দ্বিতীয় ডোজের মজুদ থেকে প্রথম ডোজ

দেশে করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়াল, আমদানি বা উৎপাদন নিয়ে শুরুর দিকে যত তোড়জোড় ছিল, তা অনেকাংশেই স্থবির হয়ে আছে অনেক দিন ধরে। ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে বেক্সিমকোর মাধ্যমে টিকা আসাও বন্ধ প্রায় দেড় মাস ধরে, কোভ্যাক্স থেকেও টিকা কবে নাগাদ আসতে পারে তা-ও ঠিক নেই। দেশে উৎপাদনের বিষয়টিও মাঝেমধ্যে জোরালো হয়, আবার থেমে যায়। সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের টিকার প্লান্ট পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কম্পানিটি বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন করা টিকা উৎপাদনের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও এর আগে আরো একাধিক কম্পানি দেশে টিকা উৎপাদন করার তোড়জোড় শুরু করেছিল। দেশীয় প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেকের উদ্ভাবনপ্রক্রিয়ায় থাকা বঙ্গভ্যাক্স টিকার ট্রায়ালের কোনো আশাব্যঞ্জক খবর মিলছে না। এদিকে সরকারের হাতে থাকা টিকার মজুদ কমে আসছে। অবস্থা এখন এমন যে হিসাব অনুযায়ী দ্বিতীয় ডোজের মজুদ খরচ করে প্রথম ডোজ চালু রাখতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৭ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ শুরু হবে। কথা ছিল এর মধ্যে টিকার একাধিক চালান আসবে, কিন্তু আসেনি। এখন যদি আগামী দুই মাসেও কোনো কারণে টিকা না আসে, তবে বড় বিশৃঙ্খল অবস্থা তৈরি হবে। কারণ এখনই দ্বিতীয় ডোজের মজুদ খরচ করে প্রথম ডোজ চালু রাখা হচ্ছে। এটা ঠিক হচ্ছে না। এ ছাড়া অন্য নতুন কোনো টিকা আনার মাধ্যমও বের করতে পারছে না সরকার। যদিও এ বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘টিকাদান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। যতটা সম্ভব দ্রুত সময়ে বাকি টিকা আনতে যোগাযোগ চলছে।’ অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আজও (গতকাল) খোঁজখবর নিয়েছি, কিন্তু টিকার চালান আবার কবে আসবে তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘বেক্সিমকো ফার্মা সেরামের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। তারা জানতে পারলেই আমাদের জানাবে।’ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী কয়েক দিন আগে ইনসেপ্টা পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, ‘দেশেই কভিড ভ্যাকসিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইনসেপ্টা সার্বিক সক্ষমতার দিক দিয়ে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে। এ ধরনের কম্পানির টিকা উৎপাদনের জন্য সিড, বাল্ক আনার অনুমোদনসহ যেসব সহায়তা প্রয়োজন, তা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হবে। আমরা দেশেই টিকায় স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।’ ইনসেপ্টার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল মুক্তাদির বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক সিঙ্গেল ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে ১.২ বিলিয়ন। আন্তর্জাতিক ও জাতীয়পর্যায়ের বিভিন্ন অনুমোদন নিয়ে টিকার সিড, বাল্ক পেলে দেশেই অতিদ্রুত টিকা উৎপাদন করা সম্ভব। এদিকে দেশে যে ৯০ লাখ ডোজ টিকা আনা হয়েছে, এর মধ্যে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৭ ডোজ দেওয়া হয়েছে। দুই ডোজ হিসাবে ৯০ লাখ ডোজ টিকা দেওয়া যায় ৪৫ লাখ মানুষকে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles