রবিবার, নভেম্বর ২৮, ২০২১

নাব্যতা হারাতে বসেছে নন্দীগ্রামের নাগর নদ

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নাগর নদ দিন দিন হারাচ্ছে এর নাব্যতা। একদিকে এই নদে চলছে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন। অন্যদিকে, নদীর দুই ধার দিয়ে অনেকেই আবাদ করেছে কৃষি। এতে নদটি হারাতে বসেছে এর চিরচেনা রূপ। স্থানীয়রা জানায়, এক সময় পানিতে থৈ থৈ করতো নাগর নদ। এখন পানি না থাকায় শুকিয়ে মরছে। যৌবন হারিয়ে এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। হারিয়ে যাচ্ছে নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। এ নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। কালের আবর্তনে নদের ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যাচ্ছে। নন্দীগ্রাম উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ভাটরা ইউনিয়নের নাগরকান্দি গ্রামের বুক চিরে বয়ে গেছে নাগর নদ। এই নদ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার প্রবহমান করতোয়া (নীলফামারী) নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে নাটোরের সিংড়া নদী দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নওগাঁর আত্রাই নদীর জলধারায় সম্পৃক্ত। নাগরকান্দি গ্রামের সোলাইমান আলী বলেন, এক সময় এই নদ-নালা, খাল-বিল, শাখা-প্রশাখা থেকে প্রচুর পরিমাণে বোয়াল, গজার, মাগুর, কৈসহ দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। এখন পানির অভাবে মাছ তো দূরের কথা, নদই ‘মরা গাঙে’ পরিণত হওয়ার পথে। নদটি খনন করে এর নাব্যতা ফিরে আনার দাবি জানান তিনি। মোক্কাবেল, মিন্টুসহ কয়েকজন জেলে জানান, আগে এই নদে অনেক মাছ পাওয়া যেত। সেই মাছ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তাঁরা। এখন পানির অভাবে মাছও পাওয়া যায় না। বগুড়ার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, তিনটি জেলা নিয়ে নাগর নদ প্রবাহিত হয়েছে। ইতিমধ্যে নাগর নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে জরিপকাজ চলছে। জরিপ শেষ হলেই তিন জেলা সবন্বয় করে কাজ বাস্তবায়িত হলে নদ তার পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসবে। সেইসঙ্গে পানির সঠিক ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কৃষিক্ষেত্রে সেচ সুবিধা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles