সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

নীলফামারী জলঢাকায় টিনসেডের ঘর ও মন্দির নির্মাণ করে জমি দখল

গত ১৩ জুলাই রাতে অন্ধকারে কবলাকৃত জমিতে চারটি টিনসেডের ঘর ও মন্দির নির্মাণ করে জমি দখল করেছে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। সংখ্যালঘু হওয়ায় ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত ভুক্তভোগী এক অসহায় পরিবার। ঘটনাটি নীলফামারীর জলঢাকা পৌরসভাধীন মাথাভাঙ্গা এলাকায়। এঘটনায় জলঢাকা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, বগুলাগাড়ী এলাকার মৃত. আব্দুল মান্নানের স্ত্রী মাহাফুজা বেগম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্বামীর ক্রয়কৃত সম্পত্তি একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান হেলালের নামীয় কবলামুলে জেএল নং- ৫৫, সিএস খতিয়ান ৯৫, ডিপি ৯৮২, এসএ দাগ ১২৫,১২৭,১২৮ ও ১২৯ এবং ডিপি ২৫৮৯ ও ২৫৯৩ এর সাড়ে ৪৮ শতাংশ জমি ভোগ দখল করে আসছে।

অভিযোগ উঠেছে মাথাভাঙ্গা এলাকার মৃত. উমেশ চন্দ্র রায়ের ছেলে ভুবন চন্দ্র রায়(৪৮)সহ তার লোকজন রাতে অন্ধকারে ঘর উত্তোলন ও মন্দির নির্মাণ করে জমি দখলে নেয়ার পায়তারা চালাচ্ছে। ভুবন চন্দ্র রায়সহ শ্রী রঘুনাথ চন্দ্র, শ্রী নকুল দাস, শ্রী মিলন দাস, শ্রী হরিপদ দাস, নলিত দাস, মানিক চন্দ্র ও সন্তোষ চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করলেও ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে জানান বাদীর জামাতা আশরাফুল ইসলাম। আশরাফুল ইসলাম আরো বলেন, সরকার দলীয় কিছু প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় আমার শ্যালকের কবলাকৃত জমি হিন্দু পরিবারের লোকজন দখল করার পায়তারা চালায়। শ্যালক মাহমুদুল হাসান একজন এম.বি.বিএস ডাক্তার বাহিরে থাকায় আমার শাশুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু অভিযোগ করলেও প্রভাবশালী নেতাদের কারনে পুলিশ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, টিনসেডের চারটি ঘর উত্তোলন মন্দির নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপন এবং করেছে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। বড় বাবার সম্পত্তি দাবি করে ভুবন চন্দ্র রায় বলেন, আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি তারা কিভাবে কিনলো, যদি কাগজ পত্রাদী কবলাদার দেখাতে পারে তাহলে আমরা দখল ছেড়ে দিবো। যতদিন কাগজপত্রাদী দেখাতে পারবেনা আমরা জমিতে থাকবো জমি ছাড়বো না। ভুবন চন্দ্রের বড় ভাই ধরনী মোহন বলেন, জ্যাঠা ধর্মনারায়নের পুত্র সন্তান না থাকায় ওয়ারিশ সূত্রেই তারা এই জমির মালিক। সেই সূত্রে তারা জমিতে ঘর তুলেছেন।কিন্তু তাদের ওয়ারিশ সূত্রে জানা যায় ধর্মনারায়ন, উমাচরন, উমেশ চন্দ্র ও জয় গবিন্দ আপন চার ভাই। শ্রী ধর্মনারায়নের সন্তানাদী না থাকলেও দত্তক পুত্র হিসেবে শ্রী নগেন্দ্র নাথ রায়কে লালন পালন করেন। কাগজপত্রে দেখা যায়, শ্রী ধর্মনারায়ন ১৯৫৫ সালে জৈনিক চন্দ্র কিশোর বর্মনের নিকট ১৬৭৫ নং কবলায় জলঢাকা মাথাভাঙ্গা মৌজাধীন¯’ বিভিন্ন দাগে তিন একর জমি ক্রয় করেন। একই সালের ১১ই মে ৩৭৮৯ নং কবলাকৃত দলিলমুলে শ্রী ধর্মনারায়ন তার সমুদয় সম্পত্তি পালিতপুত্র নগেন্দ্র নাথ রায়ের নিকট হস্তান্তর করেন।

ততকালীন রিভিশনাল রেকর্ড অব রাইটস আমলে তফশিল বর্ণিত এসএ ১১৮,১২৯, ১৩১ ও ১৩২ নং খতিয়ানে ধর্ম নারায়নের দত্তক পুত্র হিসেবে শ্রী নগেন্দ্র নাথ রায়ের একক নাম রয়েছে। সম্পত্তি ভোগ দখলকালে শ্রী নগেন্দ্র নাথ পরলোক গমন করেন। কিন্তু নগেন্দ্র নাথের কোনো সন্তানাদী না থাকায় ওয়ারিশ হিসেবে দত্তক পিতা ধর্মনারায়ন, দত্তক মাতা শ্রী উবর্শী বালা রায় ও স্ত্রী রোহিনি বালাকে রেখে গেছেন। স্ত্রী রোহীনি বালা জীরন শর্তে স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তি ভোগদখল করার কথা থাকলেও ১৯৬৩ সালে ৩৩২৮ নং কবলায় দানপত্র দলিলমুলে তিন একর জমি শাশুড়ী শ্রীযুক্ত উবর্শী বালার নামে হস্তান্তর করে এবং অন্যত্রে চলে যায়।

১৯৮০ সালে শ্রীযুক্ত উবর্শী বালা ও স্বামী ধর্ম নারায়ন একত্রে ভাই উমেশ চন্দ্রের ছেলে ধরনী মোহন রায়, নির্মল চন্দ্র রায়, মনি ভূবন চন্দ্র রায় এবং বিষাদ চন্দ্র রায়কে তিন একরের মধ্যে ১.২৩ একর জমি ঈ-ষষষ-১৪নং চরমপত্র দলিলমুলে উইল করে যান। অপরদিকে ওই তিন একরের মধ্যে ১.২৩ একর জমি ঈ-ষষষ-১৫নং চরমপত্রে ধর্মনারায়নের ভ্রাতুস্পুত্র শ্রী সুরেশ চন্দ্র রায় বরাবর উইল করে দেন উবর্শী বালা। শ্রী সুরেশ চন্দ্র রায় দীর্ঘদিন ভোগদখলের পর ১৯৯১ সালে উইল প্রাপ্ত ১.২৩ একর জমি সমুদয় ১২০৭৮ নং কবলামুলে মোখলেছার রহমানের নিকট হস্তান্তর করেন। একই বছরে ১৮ নভেম্বর উমাচরনের ছেলে সুশিল চন্দ্র, সুরেশ চন্দ্র ও সুবল চন্দ্র ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১২২ ও ১২৯ দাগের মোট জমি ১.২০ একরের মধ্যে সাড়ে ২২ শতক জমি ১২০৮৬ নং কবলামুলে মোখলেছার রহমানের নিকট বিক্রি করেন। ৯২ সালে উইল গৃহিতা উমেশ চন্দ্রের ছেলে মোহন রায়, নির্মল চন্দ্র রায়, মনি ভূবন চন্দ্র রায় এবং বিষাদ চন্দ্র রায় ১২৮ ও ১২৯ দাগে এক একরের মধ্যে ২৮ শতক জমি ৬৯০ নং কবলামুলে মোখলেছার রহমানের নিকট বিক্রি করেন।

এভাবেই ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১২২,১২৩ ১২৪, ১২৫ ও ১২৯ দাগে মোট ১ একর সাড়ে ৭৩ শতক জমি ক্রয় করেন এবং অফিসে ৮৮১/৯১-৯২নং নামজারী কেছমুলে খারিজ করেন। ৯৩ সালের ১০মে মোখলেছার রহমান ১২৮ ও ১২৯ দাগের কবলাকৃত ২৮ শতকের মধ্যে ২৫ শতক জমি ৬১৬৩ কবলামুলে আব্দুল গফুরের কাছে বিক্রি করেন। একই সালে ৩০ জুন মোখলেছার রহমান তাঁর কবলাকৃত জমি পূর্বে উল্লেখিত দাগ সমুদয়ের ৮৯২৬ ও ৮৯৩৬ নং কবলামুলে ১ একর ৪৯ শতক জমি আব্দুল গফুরের কাছে বিক্রি করেন। আব্দুল গফুর দীর্ঘদিন ভোগদখলের পর ২০০৫ সালে ৮০৮৪ নং কবলাকৃত দলিলমুলে পূর্বে উল্লেখিত বিভিন্ন দাগে ৪৬ শতাংশ জমি মাহমুদুল হাসান হেলাল নাবালকের অভিভাবক পিতা আব্দুল মান্নানের নিকট হস্তান্তর করেন।

আবার ০৭ সালে ২১১৪ নং দলিলমুলে শ্রী পান্নাথ চন্দ্র উপরোক্ত কয়েকটি দাগে আড়াই শতক জমি নাবালকের পক্ষে পিতা আব্দুল মান্নানের নিকট বিক্রি করেন। মাহাফুজা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন ভোগদখল করাকালীন আমার স্বামী আব্দুল মান্নান মৃত্যুবরন করেন। একমাত্র ছেলে মাহমুদুল হাসান হেলাল পড়াশুনার জন্য বাইরে থাকায়,একটি কুচক্রীমহলের পরামর্শক্রমে উপরোক্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাদেরেই বিক্রয়কৃত জমিতে রাতে-অন্ধকারে ঘর ও মন্দির নির্মাণ করে জমি দখলে নেয়ার চেস্টা করছে। আমি সর্বমহলের কাছে ন্যায় বিচার কামনা করছি। এবিষয়ে জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ ফিরোজ কবির বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, সাংবাদিক বাদল একটি জিডি করেছেন যার নং-৯৯০। যা ৪২৭ ও ৫০৬ ধারায় একটি প্রসিকিঊশন হবে, আদালতে প্রেরন করা হয়েছে কেছ নং-১৪/২১। লকডাউন শেষ হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আব্দুল
মালেক, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
তাং-০২-০৮-২১ইং

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles