সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

বগুড়ায় গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে ধ্রমজাল সৃষ্টি; শশুরবাড়ির লোকজনের তাড়াহুড়া করে দাফন

বগুড়ার গাবতলীতে পূত্রবধুর রহস্যজনক মৃত্যুতে ধ্রমজাল সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে মৃত ফাহিমার ভাই রিমন বাদি হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নিয্যাতন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২এ বোন এর স্বামী ও শশুর সহ ৭ জনকে আসামী করে মামলা দ্বায়ের করেন।
মামলা সূত্রে ও স্থানীয়দের মাধ্যমে জানাযায়, গেল ৮ বছর পূর্বে বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার সমজাতাইর গ্রামের ফারুক হোসেনের কন্যা ফাহিমা আক্তার লিমা’কে পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রেমের প্রলোভনে বিয়ে করেন, গাবতলী উপজেলার লাংলুহাট জানপাড় এলাকার ওসমান গনির ছেলে শহিদুল ইসলাম।
তাদের দাম্পত্য জীবনে ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে, সংসার চলাকালে যৌতুকের টাকা দাবী করে নানাবিধ অত্যচার করতো পাসন্ড স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এরই একপর্যায়ে মেয়ের সূখের কথা চিন্তা করে দিনমজুর পিতা ফারুক হোসেন ১লক্ষ ৫০ হাজার টাকা যৌতুক বাবদ দেন তাদের কাছে। কিছুদিন ঘর সংসার করার পর আবারো যৌতুকের টাকার জন্য চাপদিলে স্ত্রী ফাহিমা আক্তার লিমা দিতে অস্বিকার করলে আবারো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে তার পরিবারের লোকজন। ফলে বাধ্য হয়ে বাবার বাড়ি বগুড়া সোনাতলা উপজেলার সমজাতাইর গ্রামে ৩ মাস অবস্থান করে।
পরে চলতি মাসের ৭ই আগষ্ট জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী রফিকুল ইসলামসহ এ্যাভোকেট ফজলুল হক এর হেফাজতে (জিম্মায়) নিয়ে যায় তার স্বামীর বাড়ির লোকজন। এরপর ১৬ই আগষ্ট বিকেলে ফাহিমা আকতারের শশুর এর প্ররোচনায় স্বামী শাহিদুল ইসলাম ৩লক্ষ টাকা যৌতুক বাবদ না দিতে পারায় এবং বাপের বাড়িতে যাওয়ায় স্ত্রী ফাহিমা আক্তারকে শারীরিক নির্যাতন করে। এতে ফাহিমা অসুস্থ্য হয়ে পরলে পরিস্থিতির অবনতি হলে বগুড়ার টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।
এদিকে স্বামী শাহিদুল ইসলাম সংবাদিকদের জানায়, তার ৫ মাসের অন্তসত্তা স্ত্রীর ফাহিমার সহিদ আলোচনা করে গর্ভপাত ঘটানোর জন্য ১৬ তারিখে সোনাতলা উপজেলার বালুয়া ইউনিয়নের জীবন হোমিও হলে ডাক্তার লাকী আলম এর কাছে থেকে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে ঔষধ নিয়ে বাড়িতে গেলে ঔষধ খাওয়ার পর থেকে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি ( রক্তক্ষরণ) হয়।
মামলাসূত্রে জানাযায়, নিহত ফাহিমা আক্তার লিমা’র উপর যৌতুকের টাকার জন্য নানাবিধ শারীরিক ও  মানসিক নির্যাতন করত তার স্বামী শাহিদুল ইসলাম সহ পরিবারের লোকজন। গেল ১৬ই আগষ্ট রাতে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেটে সজোরে লাত্থি মারে তার স্বামী শাহিদুল ইসলাম।
এঘটনায় শশুরবাড়ির লোকজন তারাহুড়া করে ফাহিমার লাশ দাফন করায় রহস্যের সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে নানা গুঞ্জন চলছে। এবিষয়ে গাবতলী থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়া লতিফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মিনহাজুল বারী
বগুড়া

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles