শুক্রবার, আগস্ট ১৯, ২০২২

বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে: শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার জন্য প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আবারও অভিযুক্ত করে বলেছেন, ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটা একদিন বের হবে। তিনি বলেন, ‘হত্যার বিচার হয়েছে। তবে এই ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল, একদিন সেটাও বের হয়ে আসবে। কিন্তু আমাদের কাজ একটা ছিল—প্রত্যক্ষভাবে যারা হত্যার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার করা।’

প্রধানমন্ত্রী গতকাল রবিবার সকালে শোকের মাস আগস্টের প্রথম দিনে আসন্ন শোক দিবস উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও কৃষক লীগের এ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়ন করাটাকেই আমি সব থেকে বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। তাই পেছনে কে ষড়যন্ত্র করেছে, কী করেছে, সেদিকে না গিয়ে আমার প্রথম কাজ হচ্ছে এই ক্ষুধার্ত দরিদ্র মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করা।’

জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ’ উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রক্ত জাতির পিতাও দিয়ে গেছেন। কারণ যখন এ দেশের মানুষকে তিনি মুক্ত করেছেন, তখন যারা স্বাধীনতাবিরোধী বা যারা বিজয় চায়নি তারা তাঁকে হত্যা করেছে।’

প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘নিজের দলের ভেতরে খন্দকার মুশতাক যেমন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল, আবার অনেকেই তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। আর এই ঘটনা ঘটাতে সামরিক বাহিনীর কিছু সদস্যকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু উচ্চ পর্যায়ে যদি তাদের পক্ষে কেউ না থাকত, তবে এটা কখনো সম্ভব ছিল না। এ সময় তিনি ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশিদের স্বেচ্ছায় বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অনুযায়ী সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানকে নেপথ্য শক্তি হিসেবে উল্লেখের তথ্য এবং পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকভাবে খুনিদের পুরস্কৃত করার জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়ার বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন।’

শেখ হাসিনা রক্তদান কর্মসূচির সাফল্য কামনা করে বলেন, ‘এই রক্তদানের মাধ্যমে আমরা একজন মুমূর্ষু রোগীকেও যদি বাঁচাতে পারি, সেটাই হবে সব থেকে বড় কথা। কেননা মানবকল্যাণে আপনি এই দান করছেন।’ তিনি বলেন, ‘বাবা, মা, ভাই সব হারিয়েছি। কিন্তু একটা আদর্শকে নিয়েই পথ চলি, যে কথাগুলো ছোটবেলা থেকে বাবার মুখে শুনেছি, সেই স্বপ্নটাকে আমার বাস্তবায়ন করতে হবে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ যেন মাথা উঁচু করে চলতে পারে।’

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতাসহ ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
3,443FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles