শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১

বিএনপির ৭ই মার্চ পালনের সিদ্ধান্ত : কর্মসূচি নিলেও কথা না নিলেও

বিএনপির ৭ই মার্চ পালনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দলটির নেতারা দাবি করেছেন, আলাদা কোনো তাৎপর্য নিয়ে বা আলাদা কোনো উদ্দেশ্যে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। দিনটির গুরুত্ব বিবেচনা করেই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচিতে তা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দলের নেতারা বলছেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। সেটিই তাঁরা জনগণের কাছে তুলে ধরবেন সুবর্ণ জয়ন্তীতে। তবে ৭ই মার্চের এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতা পরবর্তী সময়ে থাকবে কি না, সেটি পরিষ্কার করেনি দলটি। জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শুধু ৭ই মার্চ নয়, আমরা ২ মার্চ পতাকা উত্তোলন দিবস, ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা, ২৬শে মার্চ প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি রেখেছি। সুতরাং এখানে আলাদা করে বলার কিছু নেই। সবটাই স্বাধীনতার ইতিহাস।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিটা বড় অদ্ভুত। আজকের ৭ই মার্চ কর্মসূচি নেওয়ার ফলে কিছু লোক কথা বলছেন। আবার কর্মসূচি না নিলেও কিছু লোক কথা বলতেন। জানতে চাইলে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস আজকের প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য আমরা সারা বছরের কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের যে সূচনা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান—তৎকালীন মেজর জিয়া ২৫ মার্চ কালো রাতের শেষ প্রহরে অথবা ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অভ্যন্তর থেকে রিভোল্ট করে কর্নেল জানজুয়াকে গ্রেপ্তার করে অস্ত্রাগার থেকে সকল অস্ত্র নিয়ে বাঙালিদের সজ্জিত করে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের হন। পরবর্তীকালে ২৭ মার্চ তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। তিনিই প্রথম সেক্টর কমান্ডার, প্রথম জেড ফোর্সের অধিনায়ক। এসব তো আজকের প্রজন্মকে জানাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে দেশের জনগণকে এসব প্রকৃত সত্য জানাতেই যে কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে, সেখানে ৭ই মার্চও আছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুবর্ণ জয়ন্তীর মতো কোনো কর্মসূচি ভবিষ্যতে ঘোষণা করা হলে সেখানে ৭ই মার্চের কর্মসূচিও থাকবে। স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘পরবর্তী বছরগুলোতে ৭ই মার্চের কর্মসূচি থাকবে কি না সেটি আমাদের দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের আলোচনার বিষয়। বিশেষ কারণে এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে পরবর্তী বছরে এর ধারাবাহিকতা কিভাবে থাকবে?’ এদিকে একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনায় জানা গেছে, ৭ই মার্চের কর্মসূচি নেওয়ায় বিএনপির কট্টরপন্থীদের মধ্যেও কিছুটা বিরূপ সমালোচনা হয়। এই অংশ মনে করছে, জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা যেমন আওয়ামী লীগ স্বীকার করে না, তেমনি ৭ই মার্চ নিয়ে বিএনপির কর্মসূচি রাখা সমীচীন নয়। তবে দলটির হাইকমান্ড ৭ই মার্চ নিয়ে বিতর্ক আস্তে আস্তে কমিয়ে আনতে চায়। তারা মনে করে, সঠিক ইতিহাসে একদিন ৭ই মার্চও থাকবে, ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণাও থাকবে। এ ছাড়া বিএনপি যে উদার গণতান্ত্রিক দল, এ বিষয়টিও দলের হাইকমান্ড জনমনে আরো স্পষ্ট করার পক্ষে। কর্মসূচি : স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন উপলক্ষে আজ রবিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা থাকবেন। এ ছাড়া সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে একটি অনুষ্ঠান হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles