মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৯, ২০২১

ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশের পরিমান বাড়ার খবরে ইতিবাচক ডিএসই

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর লভ্যাংশের সীমা বাড়ার খবরে সূচকের উত্থান দেখা যাচ্ছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। আজ মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৭ পয়েন্ট। লেনদেনের শুরুতে সূচকটি ৪০ পয়েন্ট পর্যন্ত বেড়েছিল। ডিএসইতে আজ ব্যাংক খাতের শেয়ারগুলোর দাম বাড়তে দেখা যাচ্ছে। দুপুর সোয়া ১২টা নাগাদ ব্যাংক খাতের ৯টি প্রতি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দর বাড়তে দেখা গেছে। এ ছাড়া এ সময় পর্যন্ত লেনদেনে হাত বদল হওয়া মোট শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৫ টির, কমেছে ৭৫ টির, অপরিবর্তিত আছে ১২০ টির দর। মোট লেনদেন হয়েছে ৩৩৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। গতকাল সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো চাইলে সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারবে। বিএসইসি জানায়, কোনো ব্যাংক চাইলে এখন নগদ ও বোনাস মিলিয়ে শেয়ারধারীদের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত লভ্যাংশ দিতে পারবে। আগে বাংলাদেশ ব্যাংক লভ্যাংশের এ হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেঁধে দিয়েছিল। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নগদ লভ্যাংশের সর্বোচ্চ সীমা ১৫ শতাংশ বেঁধে দিয়েছিল। গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো কার্যকরে নতুন করে আদেশ জারি করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসি কার্যালয়ে গতকাল এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএসইসির পক্ষে বৈঠকে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মাসুদ বিশ্বাস। বৈঠকের বিষয়ে বিএসইসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে গঠিত ২০০ কোটি টাকার তহবিলের অর্থ যাতে ব্যাংকগুলো বাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, সে বিষয়ে দুই সংস্থাই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ ছাড়া সরকারি ট্রেজারি বিল ও বন্ড শেয়ারবাজারে লেনদেনের বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে। জানা গেছে, অর্থবাজার ও শেয়ারবাজারে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে নিয়মিত বৈঠকের অংশ হিসেবেই গতকালের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। যেহেতু ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়ার ঘটনা শেয়ারবাজারে বেশ আলোচিত বিষয় ছিল, তাই গতকালের বৈঠকে এ নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। লভ্যাংশের সীমা বেঁধে দেওয়া বিষয়ে নির্দেশনায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, যেসব ব্যাংক নিরাপত্তা সঞ্চিতি সংরক্ষণসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য বাড়তি সময় নেয়নি এবং যাদের মূলধনের পরিমাণ ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১৫ শতাংশ বা তার বেশি, সেসব ব্যাংক শেয়ারধারীদের ১৫ শতাংশ নগদসহ সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ দিতে পারবে। এখন লভ্যাংশের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশসংক্রান্ত নীতিমালায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছিল, সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নগদ লভ্যাংশের হার ১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। এ ছাড়া যেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থান রাখতে ব্যর্থ হয়ে ঘাটতি সমন্বয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বাড়তি সময় নিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ অর্থসংস্থানের আগে কোনো ধরনের নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবে না। গতকালের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, নগদ লভ্যাংশের বাইরে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী বোনাস লভ্যাংশ দিতে পারবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles