রবিবার, ডিসেম্বর ৪, ২০২২

ভালো কাজে দেরি নয়

মানুষ যখন আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি, ক্ষমতা ও প্রজ্ঞা নিয়ে চিন্তা ও গবেষণা করে, তখন সে আল্লাহর আনুগত্যের প্রতি ঝুঁকে যায়। তার ভেতর এমন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয় যে সে নিজেই সমগ্র জগতের প্রতিপালক মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও অনুকম্পার যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করে। আর মানুষের ভেতর যখন দ্বিনি অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়, তখন মুমিনের দায়িত্ব হলো বিলম্ব না করেই তা বাস্তবায়ন করা। দ্বিনি জীবনযাপন শুরু করা। পবিত্র কোরআনে এটাকেই ভালো কাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়া অর্থে ব্যক্ত করা হয়েছে।

ভালো কাজে বিলম্ব নয়: পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা অগ্রসর হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে, যার বিস্তৃত আসমান ও জমিনের মতো, যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে আল্লাহভীরুদের জন্য।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৩)

ইমাম নববী (রহ.) এই আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখেন, ‘মুসারাত’ (অগ্রসর হওয়ার) অর্থ হলো কোনো কাজ দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করা এবং অন্যদের চেয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। অন্য আয়াতে যেমন বলা হয়েছে, ‘তোমরা ভালো কাজে প্রতিযোগিতা করো।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৪৮)

এসব আয়াতের দাবি হলো, ভালো কাজের ইচ্ছা ও প্রেরণা তৈরি হলে বিলম্ব না করা।

শয়তানের অস্ত্র: মুমিনদের সঙ্গে শয়তানের কর্মকৌশল ভিন্ন ভিন্ন। শয়তান মুমিনকে কখনো বলে না নামাজ পড়তে হবে না, এটা অন্যায় কাজ; বরং সে বোঝায় নামাজ অবশ্যই ভালো কাজ, তবে আমি কাল থেকে তা আদায় করব। প্রতিদিন এভাবে তাকে ভালো কাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। একসময় তার নামাজ পড়ার আগ্রহটাই শেষ হয়ে যায়।

জীবন অতি মূল্যবান: পৃথিবীতে মানুষের জীবনকাল খুবই সংক্ষিপ্ত। সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে এবং কেউ জানে না কখন তার জীবনযাত্রা শেষ হয়ে যাবে। সুতরাং বুদ্ধিমানের কাজ হলো সময় শেষ হওয়ার আগেই প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। বিশেষত যখন ভালো কাজের প্রেরণা তৈরি হয়, তা করার সুযোগ তৈরি হয়, তখন কিছুতেই পিছপা হওয়া উচিত নয়। হয়তো একসময় ইচ্ছাটা থাকবে না, অথবা শত ইচ্ছা থাকার পরও আমল করার সুযোগ পাওয়া যাবে না।

সুযোগ আল্লাহর অনুগ্রহ: ভালো কাজের সুযোগ, অনুপ্রেরণা ও আগ্রহ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ, মানব অন্তরে আল্লাহর অতিথি। আর অতিথির মূল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান করা সবার দায়িত্ব। আল্লাহর এ অতিথির মূল্যায়ন হলো, নফল পড়ার আগ্রহ হলে তা পড়ে নেওয়া। এমন না ভাবা, এটা ফরজ বা ওয়াজিব তো নয়! না পড়লে গুনাহ তো হবে না! এমনটি ভাবলে আল্লাহর অতিথির অসম্মান হবে। অনাদরে অতিথি ফিরে যাবে, চিরদিনের জন্য বিমুখ হবে। তাই ভালো কাজের ইচ্ছা হলে দ্রুততম সময়ে তা সম্পন্ন করা আবশ্যক।

সুযোগ যেভাবে তৈরি করতে হয়: আমার সম্মানিত পিতা মুফতি মুহাম্মদ শফি (রহ.) বলতেন, ‘যে কাজ সুযোগের অপেক্ষায় রাখা হয়, তা হাত ছাড়া হয়ে যায়। কাজ করার নিয়ম হলো দুটি কাজের মধ্যে তৃতীয় কাজ ঢুকিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ যে দুটি কাজ তুমি আগ থেকে করছিলে তৃতীয় কাজটি তার মধ্যে করে ফেলো। দেখবে তা হয়ে যাবে। যদি দুটি কাজ শেষ করে তৃতীয় কাজ করার পরিকল্পনা করলে তা কখনো বাস্তবায়িত হবে না।’

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
3,596FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles