সোমবার, অক্টোবর ১৮, ২০২১

মহামারিতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত ৯০ শতাংশ দেশে: ডব্লিউএইচও

করোনাভাইরাস মহামারির এক বছরেরও বেশি সময় পার হয়ে গেছে। ৯০ শতাংশ দেশে এখনো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দ্বিতীয় জরিপে দেখা গেছে, গত বছরের গ্রীষ্মকালে পরিচালিত প্রথম জরিপের তুলনায় পরিস্থিতি খুব বেশি বদলায়নি।

তবে পরিস্থিতি একেবারে হতাশাব্যঞ্জকও নয়। কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ২০২০ সালে পরিচালিত জরিপে দেখা গিয়েছিল, গড়ে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার অর্ধেক ব্যাহত হয়েছে। আর এ বছরের প্রথম তিন মাসে এক-তৃতীয়াংশ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয়েছে।


স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কথা জানিয়েছে অর্ধেকের বেশি দেশ। এসব দেশে রোগীদের বিকল্প ব্যবস্থায় চিকিৎসাও দেওয়া হচ্ছে। ঘরে থেকে চিকিৎসাসেবা নেওয়া, চিকিৎসার জন্য কয়েক মাসব্যাপী ব্যবস্থাপত্র ও টেলিমেডিসিনের ব্যবহার বাড়ানোর কথা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এটা উৎসাহব্যঞ্জক যে বিভিন্ন দেশ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ইস্যুতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জরিপ বলছে, যেসব দেশ মহামারিতে খারাপ পরিস্থিতি শুরুর আগে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, সেসব দেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের হেলথ এজেন্সি বলছে, বিভিন্ন দেশের সরকারকে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হচ্ছে।জরিপ আরও বলছে, এক-তৃতীয়াংশ দেশে প্রয়োজনীয় ওষুধ, রোগ নির্ণয়ের সরঞ্জাম ও পিপিইর অভাব রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, কয়েক লাখ মানুষ এখনো স্বাস্থ্যসেবাবঞ্চিত। প্রায় অর্ধেক দেশে করোনার কারণে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ২০ শতাংশ দেশ বলেছে, জীবন রক্ষাকারী জরুরি সেবা, জটিল ও সার্জিক্যাল কেয়ারের সেবা ব্যাহত হচ্ছে। ৪৩ শতাংশ দেশে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার পেছনে বড় কারণ হলো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ।

স্নায়বিক রোগসহ মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া টিবি, এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, ক্যানসার স্ক্রিনিং, হাইপারটেনশন, ডায়বেটিস, পরিবার পরিকল্পনা, জন্মবিরতিকরণ, জরুরি দন্তচিকিৎসা ও অপুষ্টির মতো রোগের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এক-তৃতীয়াংশ দেশে টিকাদান কর্মসূচিও ব্যাহত হচ্ছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে আমরা হাম, পোলিও ও অন্যান্য প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে লড়াইকে অবহেলা করতে পারি না।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles