সোমবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২১

মামুনুলকে নিয়ে আলাপ হয়নি:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে হেফাজতের বৈঠকে

দেশজুড়ে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে আবারো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে দেখা করেছেন হেফাজতে ইসলামের ছয় নেতা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের মুক্তির বিষয়ে আশ্বস্তও করেছেন বলে জানিয়েছেন হেফাজত নেতারা। তবে এর মধ্যে হেফাজতের হেভিওয়েট নেতা মামুনুল হকের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানিয়েছেন তারা।

গত মঙ্গলবার রাতে ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে সাক্ষাতে তারা হেফাজত নেতাদের গ্রেপ্তার বন্ধসহ চারদফা দাবি তুলে ধরেন। বৈঠকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান উপস্থিত ছিলেন।

এদিন রাত ৯টা ২০মিনিটের দিকে ধানমন্ডিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ করেন হেফাজতের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির মহাসচিব নূরুল ইসলাম জিহাদীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল। তারা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে রাত ১২টার দিকে বাসা থেকে বের হন।

এ সময় মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হেফাজতের দাবিগুলো-হেফাজতে ইসলামের গত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারাদেশে গ্রেপ্তার হওয়া আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়া, আলেম-উলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের গ্রেপ্তার-হয়রানি আতঙ্ক থেকে মুক্তি দেওয়া, ২০১৩ সালে হেফাজতে ইসলামের

মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে দাবি করে হেফাজত নেতারা জানান, হেফাজতের গত আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সারা দেশে গ্রেপ্তারকৃত আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মুসলিমদের দেশব্যাপী গ্রেপ্তার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে গ্রেপ্তার-আতঙ্ক ও হয়রানি থেকে তাদের মুক্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গণগ্রেপ্তার চলছে। এতে করে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না— জানতে চাইলে নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, মামুনুলের বিষয়টি এখানে আনা হয়নি। এ নিয়ে নানা ব্যাখ্যা আছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে।

মন্ত্রীর বাসভবন থেকে বেরিয়ে নুরুল ইসলাম জিহাদী বলেন, আমাদের দাবিগুলো মন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন, আশ্বাসও দিয়েছেন। এ সময় প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, মাওলানা আতাউল্লাহ ইবনে হাফেজী, মাওলানা ইয়াহিয়া, মুফতি জসিমউদ্দিন প্রমুখ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতার জেরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডবের পর সরকার হেফাজতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যায়। দেশজুড়ে চলা গ্রেপ্তার অভিযানের মধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে সমঝোতার প্রস্তাব দেয় হেফাজত নেতারা।

গত ২৬ এপ্রিল রাতে জুনায়েদ বাবুনগরীর নেতৃত্বধীন হেফাজতের কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। ওই রাতে আবার ৫ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটির ঘোষণা করা হয়। আহ্বায়ক কমিটিতে প্রধান উপদেষ্টা করা হয় আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে, আর আমিরের দায়িত্বে রাখা হয় আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles