সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

মার্কেট-শপিংমল খোলা রাখার দাবিতে বিক্ষভ করছেন ব্যবসায়িরা

সীমিত পরিসরে মার্কেট-শপিংমল খোলা রাখার দাবিতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো সোমবার বিক্ষভ করছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, রমজানের ঈদকে সামনে রেখে ব্যবসা করতে না পারলে পথে বসতে হবে তাদের। পুলিশ বাধা দিলেও বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন ব্যবসায়িরা। লকডাউন, দোকানপাট সব বন্ধ; কিন্তু নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে হাজির হন ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর নিউমার্কেট ও গাউছিয়াসহ বেশ কয়েকটি মার্কেটের সামনের রাস্তায় জড়ো হন ব্যবসায়িরা। দাবি একটাই, শিল্পকারখানা আর অফিস-আদালতের মতো স্বাস্থ্যবিধি মেনে মাস্ক পরিধান করে, বাধ্যতামূলক করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য খুলে দেয়া হোক মার্কেট ও শপিংমল। গত রমজানে ব্যবসা করতে না পেরে ঋণের বোঝা এখনো চেপে আছে ব্যবসায়িদের মাথায়। দোকান মালিক সমিতির দাবি, এবারও রমজানে ব্যবসা করতে না পারলে কর্মচারীদের বেতন দেওয়াই কষ্টকর হয়ে যাবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দিনের কিছু সময়ের জন্য হলেও বেচাকেনার অনুমতি চান ব্যবসায়িরা। সকালে পুলিশ বাধা দিলেও তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন বলে জানিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এসব মার্কেটের সামনে থাকা পুলিশ সদস্যরা বলেন, লকডাউন কার্যকরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে কন ব্যবসা প্রতিস্থান খোলা হবেনা। দোকানপাট বন্ধ আছে আর ব্যবসায়ীদের দাবিদাওয়া আমাদের ওপর মহলকে জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে যেসব নির্দেশনা আসবে, সেভাবে কাজ করা হবে। রোববার বিক্ষোভ থেকে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত আসামি করে নিউমার্কেট থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান নিউমার্কেট জোনের এডিসি।   এদিকে, সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে বলেন, লকডাউন বিষয়ে বৃহস্পতিবার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণের নতুন নতুন রেকর্ড ভাঙছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও। ফেব্রুয়ারিতে দুই শতাংশের ঘরে থাকা সংক্রমণ হার লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ায় এখন ছাড়িয়ে গেছে ২৩ শতাংশ মৃত্যু। করোনার ধাক্কায় যখন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার উপক্রম তখন বছর ঘুরে আবারো লকডাউনে বাংলাদেশ। দেশে করোনার এমন ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ রোধে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের ঘোষণা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ সরকার। রোববার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর আগে গত বছরের ৮ মার্চ দেশে যখন প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় তখনই নড়েচড়ে বসে সরকার। এরপর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর খবরের পর করোনা পরিস্থিতি প্রতিরোধে দ্রুতই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সেই ছুটি ৩১ মে পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এক বছর পর সংক্রমণ প্রতিরোধে আবারও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিল সরকার। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে দেশজুড়ে সোমবার সকাল ৬টা থেকে এক সপ্তাহের জন্য শুরু হয় লকডাউন ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles