মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২১

মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ:হতাশ জেলেরা

সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার জলে জাল পড়েছে জেলেদের। তবে কাঙ্খিত ইলিশ পাচ্ছেন না তাঁরা।

আজ শনিবার ভোর থেকে জেলার নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। কারো কারো জালে ছোট আকারের দুই-চারটি ইলিশ ধরা দিচ্ছে। মিলছে  অন্য প্রজাতির কিছু মাছও।

এর আগে গত মার্চ-এপ্রিল এই দুই মাস জাটকা সংরক্ষণে নদীতে সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা গতকাল (৩০ এপ্রিল) মধ্যরাতে শেষ হয়েছে। এরপরই মাছ ধরার জাল ও নৌকা নিয়ে দলবেঁধেই নদীতে নেমে পড়ে জেলেরা।

এদিকে, জেলা শহরের বড়স্টেশন পাইকারি মাছঘাটেরও অভিন্ন চিত্র। আজ শনিবার ভোর থেকেই সেখানে সুনশান নীরবতা চলছে। তবে মাছ ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বেঁধে আছেন। কারণ, তাদের অনেকের আগাম টাকা দেওয়া আছে জেলেদের কাছে।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোরতার মাঝেও জাটকা নিধন করেছে একশ্রেণির অসাধু জেলে। তবে তাদের সিংহভাগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ মেট্রিক টন জাটকা, ৪২ কোটি মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।

দেশের অন্যতম মৎস্য বিজ্ঞানী, ইলিশ গবেষক ডা. আনিছুর রহমান বলেন, ‘ইলিশ পরিভ্রমণশীল মাছ।

প্রতিনিয়ত চক্রাকারে স্রোতের বিপরীতে ঝাঁকবেঁধে চলে। সুতরাং জেলেদের অধৈর্য্য হলে চলবে না। একটু অপেক্ষা করতে হবে। বৃষ্টিপাত এবং পানির স্রোত বেড়ে গেলেই তখন কাঙ্খিত ইলিশ জালে পড়বে।

জেলা প্রশাসক বলেন, এসব প্রান্তিক জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে এধরনের একটি প্রস্তাবতা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ বলেন, এই জেলার প্রকৃত জেলে অর্থাৎ যারা বড় নদীতে ইলিশসহ সবধরনের মাছ শিকার করেন- এমন জেলেদের তালিকা হালনাগাদ করে তাদের প্রত্যেকের ব্যাংক হিসাব খোলা হবে। যাতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বেকার হয়ে পড়া জেলেরা আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles