সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২১

মুখ খুললেন বিচারকেরা, সারাগামাপা’র চ্যাম্পিয়ন নিয়ে পক্ষপাত

রবিবার সারেগামাপা ২০২০ বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। অর্কদীপ মিশ্রর হাতেই উঠেছে এবারের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। যদিও এ নিয়ে তর্ক-বিতর্ক জারি রয়েছে। নেটিজেনদের একটা বড় অংশের মতেই নীহারিকা বা আনুশকা অনেক বেশি যোগ্য এই ট্রফির। ইমন চক্রবর্তীর টিমের সদস্য অর্কদীপ, তবে এটাই শেষ কথা নয়, তিনি ইমনের ‘গুরুভাই’ও বটে। অর্কদীপের হাতে সেরার ট্রফি ওঠায় স্বভাবতই খুশি ইমন।

নেটিজেনরা বলছেন, ‘একদম জাজমেন্ট ঠিক হয়নি, নিহারীকাই বেশি যোগ্য ছিল। যেখানে উঠে আসে সারাগামাপা নিয়ে পক্ষপাত ও সঙ্গীতপ্রেমীদের তীব্র প্রতিবাদ। এর প্রেক্ষিতে মুখ খুলতে শুরু করেছেন বিচারকেরা। শুধু তাই নয়, তাদের প্রতি যে অভিযোগের তীর ছোড়া হয়েছে সেটাকে বাধাগ্রস্তও করতে চাইছেন প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে।

অধিকাংশ মানুষই ভেবেছিলেন ‘সারেগামাপা’ এর এই সিজনের বিজয়ী হবেন অনুশতা নয়তো নীহারিকা। কিন্তু তাদের সব ইচ্ছায় জল ঢেলে বিচারকদের মতে প্রথম স্থান পায় অর্কদীপ মিশ্র। দ্বিতীয় স্থান নীহারিকা, তৃতীয় বিদিপ্তা এবং চতুর্থ অনুশকা।

ডয়চে ভেলে বলছে, প্রতিবাদ জানিয়েছেন সংগীতশিল্পী ইমন চক্রবর্তী। তার গুরুকুলেরই সদস্য অর্কদীপ। ফেসবুক লাইভে ইমন বলেন, নীহারিকা প্রথম হলেই যে অভিযোগ থেমে যেত, তা নয়। তখন বলা হতো, অর্কদীপ কেন প্রথম হলো না? বিচারক জয় সরকারও বলেছেন, ‘চূড়ান্ত পর্বের ছয়জনকে সমান ধরেই আমরা বিচার করেছি। আর সবাই আগেও বলেছিলেন যে অবিচার হচ্ছে।

তাতেও নেটিজেনরা চুপ থাকেনি। তাঁরা এবার অতীতে ইমন ও শোভনের সঙ্গে সম্পর্ক ও সারেগামাপা এর মঞ্চে ইমনের নাচ করা নিয়েও অনেক কথাই বলেন। আর তাঁর উত্তরে ইমন আফসোস করে বলেন যে, সত্যিই যদি মানুষ শিল্পীর সাধনা বোঝেন তাহলে প্রতিযোগিতার মঞ্চে বিচারক কেন নাচবেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন না।

তবে বিজয়ী অর্কদীপ মিশ্র গোটা প্রতিযোগিতায় তার গাওয়া বিভিন্ন ধরনের গানের কথা উল্লেখ করে বলেন, লোকগান গাইলে কি প্রতিযোগিতায় সেরা হওয়া যায় না? এটা আগে জানলে তো সারেগামাপার পুরস্কার ফিরিয়ে দিতাম।

এ ছাড়া রবিবারেই তিনি একটি ফেসবুক পোস্ট করে বলেন, ‘যারা আমায় পছন্দ করেন বা যারা অপছন্দ করেন প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে জানাই আমার অনেক শ্রদ্ধা ভালোবাসা এবং প্রণাম। এই ভাবেই আমার পাশে থাকুন। শুধু আমার নয় এই মঞ্চে আমরা সবাই যারা এতদিন আপনাদের গান শোনালাম প্রত্যেকের পাশে থাকুন এবং ভালোবাসুন।

সারেগামাপার ফলাফল ঘোষণা ও ট্রল-বন্যার প্রেক্ষিতে সংগীত দুনিয়ার বহু গুণীজন জানিয়েছেন প্রতিক্রিয়া। সংগীতশিল্পী লোপামুদ্রা মিত্রের প্রশ্ন, ‘যে ছেলেটি প্রথম হয়েছে, তার কী দোষ? প্রথম হয়ে সে ফাঁসির আসামি?’ মনোময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘গুরু হিসেবে আমি ও বাকিরা কিন্তু বিচারকদের কোনোভাবেই প্রভাবিত করেননি। আমি যেমন মনে করি, ‘যুগ্ম সেরা’ বাছা যেতেই পারতো্।

জি বাংলা সা রে গা মা পার সাবেক প্রতিযোগী স্নিগ্ধজিৎ ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, টাকার বিনিময়ে বিজয়ী ঘোষণার ধারণাটি অমূলক, জি বাংলা বরং শিল্পীদের টাকা দিয়ে সহায়তা করে।

জি বাংলা চ্যানেলের ‘সা রে গা মা পা’র হাত ধরেই বাঙালি সংগীতপ্রেমীদের নজরে আসেন বাংলাদেশের কণ্ঠশিল্পী মইনুল আহসান নোবেল। প্রতিযোগিতা শেষে নোবেল পান তৃতীয় স্থান। নোবেল তা মানতে পারেননি। কিছুদিনের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত নিয়ে প্রশ্ন তুলেও বিতর্কে জড়ান নোবেল।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles