সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

স্পেস থেকে ক্যামেরায় ধরা পড়ল ভুতুড়ে আলো

রহস্যময় এক বিদ্যুতের ঝলক দেখল আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন। তাও আবার একবার নয়, একাধিকার। এই বিদ্যুতের ঝলকের দেখা পাওয়া গেছে বায়ুমণ্ডলের অনেক উপরের স্তরে। নীল রঙের ‘ভুতুড়ে’ আলো। বড়জোর ১ থেকে ২ সেকেন্ডের স্থায়িত্ব হয় তাদের। আকাশের কোন স্থান থেকে এই বিদ্যুতের ঝলকের জন্ম তা এখনও এক রহস্য।

মহাকাশ স্টেশনের রহস্যে মোড়া এই পর্যবেক্ষণের গবেষণাপত্রটি গত ২২ জানুয়ারি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘নেচার’-এ।

ভূপৃষ্ঠের ৩৫ থেকে ৪০ হাজার ফুট উপরে উড়তে উড়তে মাঝেমধ্যে এই আলোর ঝিলিক চোখে পড়ে আন্তর্জাতিক বিমানের পাইলটদেরও। যার কারণে বেশ কয়েক বার বড়সড় দুর্ঘটনায় পড়তে হয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানগুলোকে।

এই রহস্যময় আলোর ঝলক প্রায়ই ব্যাঘাত ঘটায় এফ এম রেডিও যোগাযোগব্যবস্থায়। নিখুঁতভাবে রেডিও সিগন্যাল পাঠানো যায় না এদের কারণে।

নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরির একটি সূত্র জানাচ্ছে, এই ব্লু জেটগুলিকে ভূপৃষ্ঠের ১২ কিলোমিটার উপর থেকে ২ সেকেন্ডের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার উচ্চতার দিকে ছুটে যেতে দেখা গিয়েছে। তার পরই তারা উধাও হয়ে গিয়েছে।

‘তবে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঠিক কোন জায়গায় এই ব্লু জেটগুলির উৎপত্তি হচ্ছে, কীভাবে হচ্ছে আর তারা এক দুই সেকেন্ডের মধ্যে মেসোস্ফিয়ারের ঠিক কোন জায়গায় পৌঁছে উধাও হয়ে যাচ্ছে, তা এখনও একেবারেই রহস্যাবৃত।

স্প্রাইট্‌স এবং এলভ্‌স

ব্লু জেট ছাড়াও তিন ধরনের আলোর ঝিলিক দেখা যায় আমাদের এই বাসযোগ্য গ্রহে।

তার একটির নাম ‘স্প্রাইট্‌স’। এগুলির উৎপত্তি হয় স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের ঠিক উপরের স্তর মেসোস্ফিয়ারে। এগুলির রং লাল। এগুলি বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তর থেকে নেমে আসে নিচের দিকে পৃথিবীর দিকে।

অন্যটির নাম ‘এলভ্‌স’। যা আদতে আলোর বলয়। ‘রিং’। যা চার পাশে উত্তরোত্তর বেড়ে ওঠে মিলিয়ে যায়। পুকুরে জলের তরঙ্গের মতো। এগুলির রং হয় সাদা ও সবুজ। এগুলি পৃথিবীর দিকে নেমে আসে না আবার মহাকাশের দিকেও ছুটে যায় না।

 

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
3,510FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles