মঙ্গলবার, মে ১১, ২০২১

ইবাদতে “পরিতৃপ্তি ও একাগ্রতা”

ইতমিনান (আত্ম-পরিতৃপ্তি) ও ইখলাস (একাগ্রতা) ছাড়া ইবাদত মূল্যহীন। নাজুক, নগণ্য, নিঃসম্বল হিসেবে আল্লাহ্‌র দরবারে নিবেদন করে নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য আকুতি হলো ইবাদতকারীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘আমি জিন ও মানুষ সৃষ্টি করেছি শুধু আমার ইবাদতের জন্য।’ (সুরা : জারিয়াত, আয়াত : ৫৬)

ঈমান-ইবাদতে পরিতৃপ্তির উপাদান প্রসঙ্গে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘তিনটি জিনিস যার মধ্যে আছে, সে-ই ঈমানের স্বাদ পেয়েছে—ক. যার কাছে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সব কিছু থেকে প্রিয়তর। খ. যে ব্যক্তি কাউকে শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তাঁর মুসলিম ভাইকে ভালোবাসে। গ. যে কুফরিতে ফিরে যাওয়া তেমন অপছন্দ করে, যেমন সে জাহান্নামি হওয়াকে অপছন্দ করে।’ (বুখারি)

ইবাদতে একাগ্রতা ও পরিতৃপ্তির জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অভিপ্রায়ের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ হতে হবে। কেননা মহান আল্লাহর নির্দেশ—‘তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো…।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ২০৮)

ইবাদতে নিবেদিতচিত্ত হওয়ার শিক্ষা দিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘বলে দাও, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন-মরণ সব কিছুই বিশ্বপ্রভু আল্লাহর জন্য।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৬৫)

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.) ইবাদতে আত্মতৃপ্তি প্রসঙ্গে বলেন, যখন কেউ দেখে তার অন্তর প্রশান্ত-প্রশস্ত হচ্ছে না, ঈমানের স্বাদ সে অনুভব করছে না, হিদায়াতের জ্যোতি খুঁজে পাচ্ছে না, তখন সে যেন বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করে এবং তা লাভের সব পথ ও উপায় অবলম্বন করে। কেননা মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে আমার পথে সচেষ্ট হয় আমি তার জন্য আমার পথগুলো উন্মুক্ত করে দিই।’ (সুরা : আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)

ইবাদতে একাগ্রতা ও সর্বাত্মক  নিবেদনের চেতনা শিক্ষা দিয়ে প্রিয় নবী (সা.) বলেন, ‘এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করো, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ অথবা নিশ্চিত বিশ্বাস করো যে তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (বুখারি)

ইবাদতে পরিতৃপ্তির জন্য নেকের কাজে দ্রুত ধাবিত হওয়া জরুরি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা অগ্রে ধাবিত হও তোমাদের পালনকর্তার ক্ষমা ও সেই জান্নাতের দিকে, যা আকাশ ও পৃথিবীর মতো প্রশস্ত।’ (সুরা : হাদিদ,    আয়াত : ২১)

মহান আল্লাহ ওই তাওবা কবুল করেন, যার পর কোনো সৎকর্ম করা হয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘যে তাওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে প্রকৃত অর্থে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৭১)

মহান আল্লাহ আরো বলেন, ‘যারা ভুলবশত মন্দ কাজ করে, অতঃপর অবিলম্বে তাওবা করে, এরাই হলো সেসব লোক যাদের আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।’

(সুরা : নিসা, আয়াত : ১৭)

কোরআন তিলাওয়াতে ইবাদতে একাগ্রতা ও আল্লাহর ভয় জাগ্রত হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘মুমিন তো তারাই (যাদের) আল্লাহর কথা স্মরণ করানো হলে তাদের অন্তর বিগলিত-প্রকম্পিত হয় এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াত তিলাওয়াত করা হয় তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায়।’ (সুরা : আনফাল, আয়াত : ২)। আবার নামাজ ও জিকিরে অন্তর পরিতৃপ্ত হয়, ইবাদতে একাগ্রতা সৃষ্টি হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখো আল্লাহর স্মরণে অন্তর পরিতৃপ্ত হয়।’ (সুরা : রাদ, আয়াত : ২৮)

বস্তুত ঈমানদারের কর্তব্য, সব সময় মহান আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠতা। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যে ঈমানের সঙ্গে ভালো কাজ করবে আমি তাকে উত্তম জীবন যাপন করাব।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ৯৭)

মুসলিম শরিফের বর্ণনায় হাদিসে ‘ঈমানের স্বাদের’ ব্যাখ্যায় ইমাম নববি (রহ.) বলেন ‘ঈমানের স্বাদ হলো আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ পাওয়া, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টির জন্য কষ্ট সহ্য করা এবং পার্থিব জীবনে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া।’ (তুহফাতুল আহওয়াজি)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) বলেন, ‘আল্লাহ তাকে ভালো কাজের তাওফিক দেবেন, তার অন্তর পরিতৃপ্ত-প্রশান্ত করে দেবেন।’

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

21,946FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles