রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১

কোম্পানীগঞ্জে আ. লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ-গুলি

দিনভর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নানা বক্তব্য, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে কাদের মির্জার বিভ্রান্তিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে নোয়াখালী সদর উপজেলা, শহর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন—এমন পরিস্থিতির মধ্যে শেষে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চাপরাশিহাট বাজারে। বিকেল ৫টার দিকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের এই সংঘর্ষে অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ এবং ৩৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কাদের মির্জা কোম্পানীগঞ্জে আজ শনিবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছেন। গুলিবিদ্ধরা হলেন—উপজেলার বড় রাজাপুর গ্রামের আবদুল ওয়াহিদের ছেলে সাইদুর রহমান (২৬), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের ছেলে নুরুল অমিত (২০), বসুরহাট পৌরসভার আবুল কালামের ছেলে রায়হান (২০) ও চরফকিরা ইউনিয়নের বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (২৮)। আহতরা হলেন—চরফকিরা ইউনিয়নের মো. কাঞ্চন (৬০), মুছাপুর ইউনিয়নের আবুল খায়েরের ছেলে মাসুদ (২৫), চরকাঁকড়া ইউনিয়নের আবদুস সাত্তারের ছেলে কামরুল হাসান (৩০), চরফকিরা ইউনিযনের আবদুল মান্নানের ছেলে ফরহাদ (৪০), বসুরহাট পৌরসভার আদনান (২৪) ও মারুফ (২৫) সহ ৩৫ জন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সেলিম বলেন, আহতদের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ চারজনসহ গুরুতর আহত ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র কাদের মির্জা গত বৃহস্পতিবার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দিলে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে নিয়ে মিথ্যাচারের প্রতিবাদে চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশির হাট বাজারে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল বিকেলে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেন। পরে বাদলের অনুসারীরা চাপরাশির হাট বাজারে মিছিল করতে গেলে কাদের মির্জার সমর্থকদের মিছিলের সঙ্গে ধাওয়াধাওয়ির ঘটনা ঘটে। মিছিল দুটি বাজার প্রদক্ষিণ করার সময় সবজি বাজারের সামনে মুখোমুখি হলে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় অন্তত চারজন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন অন্তত ৩৫ জন নেতাকর্মী। কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহিদুল হক রনি জানান, খবর পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে। পরে ব্যর্থ হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাত-আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তিনি আরো জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি। পরে এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তার আগে, গতকাল বিকেলে বসুরহাট পৌরসভা হলরুমে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কাদের মির্জা বলেন, ‘জনপ্রিয়তা মানুষের জন্য একটা কাল। এর ভুক্তভোগী আজ আমি। বড় নেতা থেকে ছোট নেতা সবাই আমার বিরোধিতা করছেন। সব শিয়ালের এক ডাক।’ তিনি বলেন, ‘যারা অপরাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারা কবিরহাট থেকে লোক এনে কোম্পানীগঞ্জে রক্তপাত করার ষড়যন্ত্র করছে। আমি একজন অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক কর্মী। সবার মুখ বন্ধ হয়ে গেলেও আমি বলব।’ শনিবার থানার সামনে আসার আহ্বান এর আগে গতকাল সকালে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা লাঠিসোঁটা নিয়ে সবাইকে শনিবার (আজ) থানার সামনে আসার আহ্বান জানান। গতকাল সকালে থানার সামনে দুই ঘণ্টা অবস্থান ধর্মঘট শেষে তিনি এ আহ্বান জানান। কদের মির্জা বলেন, অপশক্তিরা আজ এক হয়েছে। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ঢাকায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল ও ফখরুল ইসলাম রাহাতের নেতৃত্বে কোম্পানীগঞ্জের অপশক্তিরা একজোট হয়েছে। এদেরকে একরাম চৌধুরী ও নিজাম হাজারী টাকা দিয়ে এসব করাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘আমার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে যত দিন অপশক্তিদের দমন না করা যায়।’ তিনি আবারও নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক খোরশেদ আলম খান, পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি মীর জাহেদুল হক রনি, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রবিউল হকের প্রত্যাহারের দাবি জানান। কাদের মির্জার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের নামে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নোয়াখালী সদর উপজেলা, শহর আওয়ামী লীগ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন। গতকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ পিন্টু। এ সময় তিনি বলেন, বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা প্রায় দুই মাস ধরে বিভিন্ন সভা, সমাবেশ, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সম্পর্কে অশোভন বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিরোধীদলীয় মুখপাত্রের মতো মিথ্যা বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিয়ে আসছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। কাদের মির্জার এসব অশোভন আচরণের শাস্তি দাবি করে তিনি আরো বলেন, ‘কাদের মির্জা তাঁর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মতো সচিবালয়ের বিভিন্ন সচিব, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেই চলেছেন, যা মোটেও কাম্য নয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন নোয়াখালী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ কে এম সামছুদ্দিন জেহান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক বিপ্লব ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান প্রমুখ।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles