বুধবার, জুলাই ২৮, ২০২১

ফেসবুক টুইটারে সমস্যা জানালেই সমাধান

গত জানুয়ারির শুরুর দিকে তেজগাঁও লিংক রোডের শান্তা টাওয়ারের সামনে ওয়াসার স্যুয়ারেজ পাইপ লিকেজ হয়ে রাস্তায় পানি জমায় বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল ওই এলাকার ব্যবহারকারীদের। বিষয়টি  এলাকার মাহফুজ নামে এক বাসিন্দা ওয়াসার জরুরি হেল্পলাইনে (নম্বর ১৬১৬২) জানান। দুই দিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান করে ওয়াসা। মাহফুজ বলেন, ‘রাস্তায় মানুষের সমস্যা হচ্ছে দেখে আমি হেল্পলাইনে ফোন করে বিষয়টি জানাই। কাজ হবে কি না নিশ্চিত ছিলাম না। দুই দিন পর গিয়ে দেখি পানি জমে নেই।’ এভাবে ওয়াসার জরুরি হেল্পলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়ে দ্রুত সমাধান পেয়ে খুশি ওয়াসার গ্রাহকরা। সূত্র জানায়, গত তিন মাসে শুধু হেল্পলাইনেই ৪০ হাজারের মতো ফোন আসে। এ ছাড়া ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটারেও সমস্যার কথা জানাচ্ছে অনেকে। যদিও টুইটার ব্যবহারকারী কম হওয়ায় এই মাধ্যমে গ্রাহকের অংশগ্রহণ কম। গত তিন মাসে ওয়াসার হেল্পলাইনের তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, হেল্পলাইনে ফোন করে নতুন পানির সংযোগ, পানি ঠিকমতো না পাওয়া, পানির পাইপ লিকেজ, অতিরিক্ত বিল আসা, পানিতে দুর্গন্ধ, স্যুয়ারেজের ঢাকনা না থাকা, স্যুয়ারেজের লাইন ময়লায় আটকে যাওয়া, রাস্তায় পানি জমে থাকা, অবৈধ গ্যাস সংযোগের তথ্য দেওয়া ইত্যাদি বিষয় জানিয়ে থাকে গ্রাহকরা। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসার সেবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে সহজ করার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে আমাদের সফলতা অনেক। হেল্পলাইনে মানুষের অংশগ্রহণ রয়েছে। সমস্যার কথা জানিয়ে সমাধান পাওয়াতে কলের সংখ্যা বাড়ছে। সেই সঙ্গে আমাদের ফেসবুক পেজ, ইনস্ট্যাগ্রাম ও টুইটারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রাহকদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য প্রচারণা চালানো হয়। এখন মানুষ শুধু নিজের সমস্যার কথা জানায় না, এলাকার সমস্যার কথা, অনিয়মের কথাও জানাচ্ছে। এটা আশা জাগানিয়া যে মানুষ সচেতন হচ্ছে।’ ওয়াসা সূত্র জানায়, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা ওয়াসাই প্রথম হেল্পলাইন সার্ভিস চালু করে। এখন পর্যন্ত অনেকটা নীরবে হেল্পলাইনের মাধ্যমে সমস্যার কথা জানার পর সমাধান করছে ওয়াসা। জানা যায়, সম্প্রতি ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বড় ক্যাম্পেইনের কথা ভাবছে সংস্থাটি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে পানি ঠিকঠাক পাচ্ছিলেন না খিলক্ষেত নওয়াপাড়ার হাজার হাজার মানুষ। বিষয়টি মাহমুদা হোসেন ডেইজি নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা হেল্পলাইনের মাধ্যমে ওয়াসাকে জানায়। কয়েক দিনের মাথায় পানির সরবরাহ ঠিক করা হয়। সমাধান হওয়ার পরপরই হেল্পলাইনে ফের ফোন করে ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খানকে ধন্যবাদ জানান ওই বাসিন্দা। ডেইজি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এলাকায় পানি ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আমি বিষয়টি ওয়াসাকে জানালে সমস্যার সমাধান হওয়াতে অনেকেই আমাকে বাহবা দেন। কিন্তু কাজটি তো করেছে ওয়াসা, তাই ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করে ধন্যবাদ জানিয়েছি।’ ১৬১৬২ সূত্র মতে, গত তিন মাসে প্রায় ৪০ হাজার ফোন কল আসে হেল্পলাইনে। যার মধ্যে ১৫ হাজার ৯২২টি কলের সঙ্গে যুক্ত হয়ে উত্তর দেন ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বেশির ভাগেরই দ্রুত ব্যবস্থা নেয় কর্তৃপক্ষ। গত এক মাসে শুধু পানিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে দুই হাজার ৫১ জনকে অনলাইনে টিকিট দেওয়া হয়। পরে দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান করা হয়। ফেসুবক, ইনস্ট্যাগ্রাম ও টুইটারেও ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগ তীক্ষ নজর রাখছে। গত ডিসেম্বর মাসে ওয়াসার ফেসবুক পেজে রাত ১টার সময় বার্তা পাঠান ২৭ কলাবাগান এলাকার বাসিন্দা আয়াতুল্লাহ খান ফারুক। তাঁর বাসার পানির বিল বেশি আসছে এমন সমস্যার কথা জানানোর পর ফিরতি বার্তায় সমাধানের আশ্বাস দেন ওয়াসার প্রকৌশল বিভাগ। পরের দিন ফারুকের মোবাইল নম্বরে রিং দিয়ে কলাবাগান যায় ওয়াসার কর্মীরা। আয়তুল্লাহ খান ফারুক বলেন, ‘আমার বাসায় পানির বিল বেশি আসছিল। রাতে হঠাৎ করে ওয়াসার ফেসবুক পেজ দেখে মেসেঞ্জারে বিষয়টি জানাই। কয়েক মিনিটের মধ্যে ফিরতি মেসেজে আমার মোবাইল নম্বর এবং ঠিকানা জানতে চাওয়া হয়। পরের দিনই ওয়াসার কর্মীরা এসে দেখেন মিটারে আয়রন জমার কারণে বিল বেশি আসছিল। পরে ঠিক করে দেওয়া হয়।’ একই রকম সমস্যার কথা জানিয়ে সমাধান পাওয়ার কথা জানিয়েছেন কলাবাগানের আরেক বাসিন্দা ইমতিয়াজ আহমেদ। ওয়াসার সেবা পেতে এবং নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে  ফেসুবক  (www.facebook.com/dhakawasa1996), টুইটার (twitter.com/Dhaka WASA) এবং ইনস্ট্যাগ্রামের (www.instagaram.com/dhaka.wasa/) ঠিকানাগুলোতে জানাতে পারছে গ্রাহক।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles