সোমবার, আগস্ট ২, ২০২১

মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ৩ স্তম্ভ

মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) বলেন, ‘তুমি তোমার কোনো (মুসলিম) ভাইকে ভালোবাসলে তার সঙ্গে ঝগড়া করবে না, তার ক্ষতিসাধনের চিন্তাও করবে না এবং তার কাছে কিছু চাইবেও না। এমন যেন না হয় যে, তুমি শক্রর খপ্পরে পড়ে যাও এবং সে তোমাকে তাঁর (বন্ধু) সম্পর্কে এমন কথা বলবে যা তার মধ্যে নেই। এভাবে সে তোমার ও তাঁর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবে।’ (আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৫৩৭) আলোচ্য হাদিসে মুসলিম ভ্রাতৃত্বের তিনটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। তা হলো, ঝগড়া ও ক্ষতির চিন্তা পরিহার করা এবং প্রত্যাশা না রাখা। এরপর হাদিসে বন্ধুর ব্যাপারে অন্যের কানকথা শোনার ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।

  • তিন স্তম্ভের গুরুত্ব

কোরআন-সুন্নাহে উল্লিখিত তিন বিষয়ের সমর্থনে একাধিক আয়াত ও হাদিস পাওয়া যায়। কোরআন ও সুন্নাহের আলোক বিষয়গুলোর তুলে ধরা হলো।

ঝগড়া না করা : মুসলমানের জন্য পরস্পর ঝগড়া-বিবাদে লিপ্ত হওয়া নিন্দনীয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঝগড়াটে মানুষ সম্পর্কে সতর্ক করে বলেছেন, ‘হে আয়েশা! যখন তুমি তাদেরকে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বাদানুবাদ করতে দেখবে, তখন মনে করবে যে, এরা সেই লোক যাদেরকে আল্লাহ অপদস্থ করেন। তোমরা তাদের পরিহার করো।’ (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪৭) অন্য হাদিসে এসেছে, ‘ঝগড়াটে মানুষ আল্লাহর কাছে সবচেয়ে অপছন্দনীয়।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭১৮৮)

ক্ষতির চিন্তা না করা : ইসলামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্যই হলো তা কল্যাণকামী। তামিমে দারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দ্বিন কল্যাণকামিতার নাম (তিনবার)।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৪৪) অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা কোরো না, পণ্যের দাম বাড়িয়ো না (কেনার ইচ্ছা না থাকলে), পরস্পর বিদ্বেষ পোষণ কোরো না, পরস্পরের পেছনে পড়ো না এবং একজনের ক্রয়-বিক্রয় শেষ হওয়ার আগে ক্রয়-বিক্রয় কোরো না। তোমরা আল্লাহর বান্দা ও ভাই ভাই হয়ে যাও। মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার প্রতি অবিচার করে না, তাকে অপদস্থ করে না এবং তাকে তাচ্ছিল্য করে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

অন্যের কাছে প্রত্যাশা করা : কোনো মুসলিমের কাছে সাধারণ প্রত্যাশা নিন্দনীয় নয়। যেমন ভালো ব্যবহার, মানবিক সহযোগিতা, অন্যায়ের প্রতিকারে এগিয়ে আসা। নিষিদ্ধ হলো সেসব প্রত্যাশা যা লোভে পরিণত হয় এবং যা ‘তাওয়াক্কুলে’র স্তরে পৌঁছে যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা আল্লাহর ওপরই ভরসা রাখো যদি তোমরা মুমিন হও।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ২৩)

  • সাধারণ প্রত্যাশা পূরণ করা আবশ্যক

মুমিন আল্লাহর কাছে সব কিছু প্রত্যাশা করবে। অন্যদিকে সমাজের সাধারণ প্রত্যাশা পূরণে মনোযোগী হবে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘যখন তা ফলবান হয় তখন তার ফল খাবে আর ফসল তোলার দিনে তার হক প্রদান করবে। অপচয় করবে না; নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।’ (সুরা : আনআম, আয়াত : ১৪১) কোরআনের ব্যাখ্যাকাররা বলেন, এখানে ‘ফসল তোলার দিনে’ বলার কারণ হলো তখন অসহায় মানুষের ভেতর ফল-ফসল প্রাপ্তির প্রত্যাশা তৈরি হয়। সুতরাং ফরজ ও নফল দান আদায়ের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার প্রতি লক্ষ রাখাও মুমিনের সামাজিক দায়িত্ব।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles