বুধবার, আগস্ট ৪, ২০২১

লক্ষাধিক তরুণের অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরির সংযোগস্থল ‘ফিউচার নেশন’

কোভিড – ১৯ অতিমারির পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার উদ্দেশ্যে তরুণদের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রথমবারের মত সরকারি, বেসরকারি এবং উন্নয়ন খাতের মাঝে সংযোগ সাধন করা হয়েছে ‘ফিউচার নেশন’-এ। ১০ মার্চ বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) যৌথ উদ্যোগে বিভিন্ন অংশীদারদের কাছে ‘ফিউচার নেশন’কে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে একটি জাতীয় পর্যায়ের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতির জন্য উপযুক্ত কর্মক্ষেত্র এবং উদ্যোক্তা তৈরির সম্মিলিত প্রচেষ্টা হিসাবে ফিউচার নেশন কোভিড পরবর্তী বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করেছে। এই কর্মসূচিটি ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশে সকলের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগসুবিধা বৃদ্ধির পরিকল্পনা করেছে। এই কর্মসূচিটি বিনিয়োগে উন্নয়ন, দক্ষ কর্মী তৈরি ও প্রাসঙ্গিক সক্ষমতার ক্ষেত্রগুলো সমর্থনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগগুলোকে তরান্বিত করে একটি সক্রিয় ইকো সিস্টেম বিনির্মাণে আগ্রহী যেখানে শিল্প বিশেষজ্ঞদের সমন্নয় করা হবে এবং এর মাধ্যমে ‘ফিউচার নেশন’ কৌশলগত ভাবে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান তৈরির পরিকল্পনা করছে। প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারী খাত, শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে কর্মশালার উদ্বোধনকালে সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম প্রধান এজেন্ডা ছিল অধিক হারে সরকারি এবং বেসরকারি অংশীদারিত্ব । ‘ফিউচার নেশন’ কেবল আমাদের কোভিড থেকে উত্তরণে সহায়তা নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এমনকি পঞ্চম শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় সহযোগিতা করবে।’ তিনি বেকারত্বের হার কমাতে যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্ব আরোপ করেছেন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব জনাব আহমেদ কাইকাউস। কর্মশালায় বক্তৃতাকালে তিনি বলেন, ‘শ্রমশক্তির ৬৭ ভাগ আমাদের যুব সমাজ । এর সুবিধা নিতে হলে আমাদের দক্ষ জনগোষ্ঠী থাকতে হবে। কোভিড পরবর্তী সময়ে ‘ফিউচার নেশন’ আমাদের দেশের পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’ ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখাৰ্জী অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘পরবর্তী দুই দশকে আমাদের তরুণ জনসংখ্যার অর্ধেক শ্রমবাজারে প্রবেশ করবে এবং তাদের অবদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্থায়ীভাবে একটি সম্পূর্ণ উন্নত দেশ হওয়ার পথে  যাত্রা শুরু করবে। তিনি তার স্বাগত বক্তব্যে আরও বলেন, আমাদের দৃষ্টি ২০৩০ এ রয়েছে এবং ইতোমধ্যে আমরা কর্মময় দশকে অবস্থান করছি।’ বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতিতে বিনিয়োগ পরিষেবা উন্নয়নের বিকল্প নেই এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাদের এখানে বিনিয়োগে স্বাচ্ছন্দ্য প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য আস্থা প্রদান করা। অতএব, আমাদের অর্থনীতিকে আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা আবশ্যক । ফিউচার নেশন এমন একটি প্রোগ্রাম যা এই সমস্ত মডিউলগুলির কেন্দ্রস্থল হিসাবে কাজ করতে পারে এবং আমাদের অবশ্যই একসাথে কাজ করতে হবে যা নতুন বাংলাদেশ তৈরিতে নিশ্চয়তা প্রদান করবে; এমন বাংলাদেশ যেখানে এই দক্ষতাই হবে বিশ্ব বাজার মোকাবেলা করার একমাত্র হাতিয়ার।’ এর আগে, গ্রামীণফোনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, জেনস বেকার বেসরকারি খাতের প্রধান হিসেবে ফিউচার নেশন বিষয়ক একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যা ২০২০ সালে গঠিত কোভিড – ১৯ পরবর্তী কর্মপ্রবাহকে নির্দেশ করে। তিনি সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন খাতকে সম্পৃক্ত করে একসাথে কাজ করার উপর জোর দিয়েছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles