শনিবার, জুন ১৯, ২০২১

ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রতীক

বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭৫ সালের ২২ মার্চ এক বিশেষ অধ্যাদেশবলে প্রতিষ্ঠিত হয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর এই শুভলগ্নে শুরু হলো প্রতিষ্ঠানটির ৪৭তম বর্ষের পথচলা। মৃত্যুর মাত্র ১৪৬ দিন আগে ইসলামের প্রচার ও প্রসারকল্পে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রাণের দাবি ইসলামিক ফাউন্ডেশন নামক একটি প্রতিষ্ঠান, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল নিরবচ্ছিন্নভাবে ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধের চর্চা। এটি বঙ্গবন্ধুর ধর্মানুরাগের জ্বলন্ত প্রমাণ।বঙ্গবন্ধু প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন এখন সরকারি অর্থে পরিচালিত মুসলিম বিশ্বের অন্যতম একটি বৃহৎ সংস্থা হিসেবে নন্দিত। এর প্রধান কার্যালয় আগারগাঁও, শেরেবাংলানগর ছাড়াও বায়তুল মোকাররমস্থ অফিসে প্রধান কার্যালয়ের কয়েকটি বিভাগীয় কার্যালয় রয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি কেন্দ্রীয়ভাবে ১৭টি বিভাগ, সাতটি প্রকল্প, একটি কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, মাঠ পর্যায়ে আটটি বিভাগীয়সহ ৬৪টি জেলা কার্যালয় এবং আর্ত মানবতার সেবায় ৫০টি ইসলামিক মিশন কেন্দ্র রয়েছে। সাতটি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি কেন্দ্রের মাধ্যমে সারা দেশের ইমাম ও উলামাদের সচেতন ও কর্মমুখী দক্ষতায় গড়ে তোলার মানসে নানামুখী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। যার মধ্যে আছে—

  • এক. মসজিদ ও ইসলামী কেন্দ্র, একাডেমি ও ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
  • দুই. সংস্কৃতি, চিন্তা, বিজ্ঞান ও সভ্যতার ক্ষেত্রে ইসলামের অবদানের ওপর গবেষণা পরিচালনা।
  • তিন. ইসলামের মৌলিক আদর্শ বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধ, পরমতসহিষ্ণুতা, ন্যায়বিচার প্রভৃতি প্রচার করা ও প্রচারের কাজে সহায়তা করা এবং সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনে ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের সুপারিশ করা।
  • চার. ইসলামী মূল্যবোধ ও নীতিমালা জনপ্রিয় করে তোলার  লক্ষ্যে ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কিত গবেষণার আয়োজন করা ও তার প্রসার ঘটানো এবং জনপ্রিয় ইসলামী সাহিত্য সুলভে প্রকাশ করা এবং সেগুলোর বিলি-বণ্টনকে উৎসাহিত করা।
  • পাঁচ. ইসলাম ও ইসলামের বিষয় সম্পর্কিত বই-পুস্তক, সাময়িকী ও প্রচার পুস্তিকা অনুবাদ করা, সংকলন করা ও প্রকাশ করা।
  • ছয়. ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, আইন ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়াদির ওপর সম্মেলন, বক্তৃতামালা, বিতর্ক ও সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা।
  • সাত. ইসলামবিষয়ক গবেষণার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য পুরস্কার ও পদক প্রবর্তন করা।
  • আট. ইসলাম সম্পর্কিত প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া, প্রকল্প গ্রহণ করা কিংবা তাতে সহায়তা করা।
  • নয়. ইসলামবিষয়ক গবেষণার জন্য বৃত্তি প্রদান করা।
  • দশ. উপরোক্ত কার্যাবলির যেকোনোটির ক্ষেত্রে আনুষঙ্গিক বা আপতিক সব কাজ সম্পাদন করা। ইত্যাদি আরো বেশ কিছু জনহিতকর কর্মতৎপরতার মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলমানদের কল্যাণে ও ইসলামের সৌন্দর্য বিশ্বময় তুলে ধরার মানসে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিধিবদ্ধ একটি সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে। যার কার্যক্রম যথাযথভাবে তত্ত্বাবধান ও পর্যবেক্ষণের জন্য সংসদ সদস্য, দেশসেরা শিক্ষাবিদ, ইসলামী চিন্তাবিদ ও সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্তকর্তাদের সমন্বয়ে একটি বোর্ড অব গভর্নরস আছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চলমান মন্ত্রী এই বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হলেন মহাপরিচালক, যিনি সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হন। বোর্ড অব গভর্নরস কর্তৃক গৃহীত দায়িত্বাবলি তিনি বাস্তবায়ন করেন। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ইসলাম ও মুসলিম মূল্যবোধ লালন ও চর্চায় রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে দুই হাজার ৩১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সম্মানী/ভাতার ভিত্তিতে ৭১ হাজার ১৮৫ জনসহ মোট ৮৪ হাজার ২৫৩ জন জনশক্তি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। মহান আল্লাহ আমাদের এই জাতীয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমগুলোকে কবুল করুন। যাঁদের শ্রম ঘামে এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা ও অগ্রযাত্রা, এর সদকায়ে জারিয়া তাঁদের কবরে পৌঁছাতে থাকুক।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles