মঙ্গলবার, জুন ১৫, ২০২১

তারল্য সংকট মোকাবেলায় বৈশ্বিক পদক্ষেপ জরুরি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কভিড-১৯ ও কভিড-পরবর্তী সময়ে তারল্য সংকটের দ্রুত সমাধান ও ঋণের বোঝা লাঘবে সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং কভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে তারল্য সংকট মোকাবেলা ও ঋণের বোঝা লাঘবে আমাদের উচ্চাভিলাষী ও সমন্বিত বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনা প্রয়োজন।’ প্রধানমন্ত্রী সোমবার ‘ইন্টারন্যাশনাল ডেট-আর্কিটেকচার অ্যান্ড লিকুইডিটির’ ওপর ‘ফিন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য এরা অব কভিড-১৯ অ্যান্ড বিয়ন্ড ইনিশিয়েটিভ’ শীর্ষক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে ভিডিওবার্তায় এ কথা বলেন। কভিড-১৯-এর মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পুরো বিশ্বকে যখন অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে, তখন উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ নিশ্চিতে জরুরি ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, জ্যামাইকার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ড্রু হোলনেস ও জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বৈঠক আহ্বান করেন। তারল্য সরবরাহ ও ঋণ সমস্যা সমাধানে অধিকতর সাহসী ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার গুরুত্ব তুলে ধরাই এই উচ্চপর্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকের লক্ষ্য। ২০২০ সালে ফিন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ইন দ্য এরা অব কভিড-১৯ অ্যান্ড বিয়ন্ড ইনিশিয়েটিভের (এফএফডিআই) পৃষ্ঠপোষকতায় মহামারি থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহায়তার লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা ঠিক করতে অনুষ্ঠিত কয়েকটি বৈঠকের পর এই ভার্চুয়াল বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো। শেখ হাসিনা ভিডিওবার্তায় আরো বলেছেন, ‘জি৭, জি২০ এবং ওইসিডি (অর্গানাইজেশন ফর ইকোনোমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আমাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য উন্নত দেশ, এমডিবিএস (মাল্টিলেটারাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকস) এবং আইএফআইএসের (ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যানশিয়াল ইনস্টিটিউশন) উচিত বৃহৎ পরিসরে এবং নতুন ‘স্পেশাল ড্রইং রাইটস’-এর মতো বরাদ্দের মাধ্যমে তারল্য বাড়ানো। উপযুক্ত সংস্কারের জন্য আন্তর্জাতিক ঋণ কাঠামো সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী চলাকালে এই ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারি দেখা দেওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে এবং বিশ্ব এখনো করোনার কারণে যে আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। শেখ হাসিনা বলেন, আগামী দুই বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে আনুমানিক প্রায় ৮.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হতে পারে বলে জাতিসংঘ আশঙ্কা করেছে। প্রধানমন্ত্রী কভিড-১৯ মোকাবেলায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা আমাদের জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর থেকে মহামারির বিরূপ প্রভাব হ্রাস করার সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা মহামারি শুরুর পরপরই ১.২৪ ট্রিলিয়ন টাকা বা ১৪.৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রণোদনা প্যাকেজ শুরু করেছি, যা আমাদের জিডিপির প্রায় ৪.৪৪ শতাংশ।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বিঘ্নে ব্যবসা কার্যক্রম নিশ্চিতে তাঁরা বাজারে পর্যাপ্ত তারল্য ও ঋণযোগ্য ফান্ড সরবরাহ করেছেন। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ফরেন এক্সচেঞ্জ মার্কেট, ফরেন ট্রেড ও ফিন্যান্স, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক ঋণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সহনীয় করতে সহায়ক নীতি গ্রহণ করেছি।’ সরকারের বিচক্ষণ ঋণ পলিসির কারণে চলমান মহামারি সত্ত্বেও বাংলাদেশ এখনো ভালোভাবে ঋণ পরিশোধে তার ‘ঋণখেলাপি না হওয়ার’ সুনাম অক্ষুণ্ন রেখেছে। সূত্র : বাসস।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles