রবিবার, জুলাই ২৫, ২০২১

বন্দিদের ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করার প্রস্তাব

করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ার ফলে কারা কর্তৃপক্ষও চিন্তায় পড়েছে। কারাগার থেকে প্রতিদিন শত শত বন্দিকে মানুষকে আদালতে পাঠাতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্দিদের আদালতে না পাঠিয়ে কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি কার্যক্রম চালানো যায় কি না, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই প্রস্তাব পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। এখন প্রস্তাবটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হাবে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে সেটি কার্যকর করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান মামুন। এদিকে গতকাল থেকে আবারও দেশের সব কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সব ধরানের সাক্ষাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এক বছর বন্ধ থাকার পর আবার ও গত মার্চ থেকে কারাগারে স্বজনদের দেখা-সাক্ষাৎ চালু করা হয়েছিল। এক মাস যেতে না যেতেই এই মহামারির করন এ ব্যবস্থা আবারও বন্ধ করতে বাধ্য হলো কারা কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিমান্ড শুনানি, জামিন শুনানিসহ বিভিন্ন কারণে বন্দিকে আদালতে পাঠাতে হয়। শুধু ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকেই প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই শ বন্দিকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে যাওয়ার পর হাজতখানায় অনেক নতুন আসামির সঙ্গে তাঁদের থাকতে হয়। আইনজীবী ও স্বজনদের সঙ্গেও দেখা মেলে সকল বন্দিদের। এই দেখা-সাক্ষাতের ফলে বন্দিরা করোনা আক্রান্ত হতে পারেন। একজন বন্দি করোনা আক্রান্ত হয়ায় কারা ওয়ার্ডে ব্যাপকহারে আক্রমনএর আশঙ্কা থেকে যায়। এসব কারণে বন্দিদের আদালতে না পাঠিয়ে ভার্চুয়াল কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, ‘বন্দিদের করোনামুক্ত রাখতে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। পাশাপাশি যাঁরা বন্দিদের দায়িত্ব পালন করেন তাঁরাও করোনা আক্রান্ত না হন সে জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের কারাগারগুলোতে গত বছর করোনা শুরু হওয়ার পর বন্দিরা তেমন আক্রান্ত না হলেও দুই শতাধিক কর্মকর্তা ও কারারক্ষী আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফলে এবার করোনা বেড়ে যাওয়ার কারণে আগেভাগেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ, এর অংশ হিসেবে কারাগারে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ করা হয়েছে। সূত্র জানায়, করোনার কারণে ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকে স্বজনদের সঙ্গে বন্দিদের সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে করোনা কমে আসায় নতুন করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। গত ১ মার্চ থেকে প্রতি বন্দির সঙ্গে ১৫ দিন অন্তরে একজন স্বজনের সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। এর মধ্যেই করোনা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় কারা কর্তৃপক্ষ স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ করে দিয়েছে। তবে আগের মতো মোবাইল ফোনে বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। বন্দিদের সুরক্ষা দিতে কারাগারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। এক কর্মকর্তা জানান, গত বছর মার্চ মাস থেকে নতুন বন্দি কারাগারে এলে তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রেখে এরপর ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হচ্ছে, এখনো অব্যাহত রয়েছে। তবে কারাগার থেকে বন্দিদের আদালতে আনা-নেওয়ার পর বন্দিকে কোয়ারেন্টিনে না রেখে ওয়ার্ডে রাখা হচ্ছে। তবে তাঁদের কারাগার থেকে বের করার সময় এবং আবার ভেতরে ঢোকার সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করা হয়। তবে এতেও ঝুঁকি থেকে যায় বলে মনে করেন অনেকে। জানতে চাইলে আইজি প্রিজন্স বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত বন্দিকে আদালতে পাঠাতে হয়। তাঁদের কোয়ারেন্টিনে রাখার মতো সুযোগ নেই। তবে যেসব নতুন বন্দি কারাগারে আসেন তাঁদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক বছর ধরে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় বন্দিরা ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। গত মার্চ মাস থেকে স্বজনদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ায় বন্দিরা খুশি হয়েছিলেন। এই সুযোগ আবার বন্ধ করে দেওয়ায় বন্দিরা যাতে হতাশ না হন সেটা তাঁদের বুঝিয়ে বলবেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। করোনার ভয়াবহতাও তুলে ধরা হবে বন্দিদের সামনে। এ ছাড়া মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার জন্য আগের চেয়ে সময় কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles