শনিবার, জুন ১৯, ২০২১

তথ্য প্রচারে সতর্কতা জরুর বার্তা

বর্তমান সমই এ প্রযুক্তি মানুষের হাতের মুঠোয়। যে কেউ প্রযুক্তির সহায়তায় যেকোনো কিছু সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারে খুব সহজেই। যেহেতু বেশির ভাগ মানুষ অনলাইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই বিভিন্ন কুচক্রি মহল খুব সহজেই ভুয়া খবর ছড়িয়ে দিতে পারে সকলের মধ্যে। অনকে মানুষ এগুলো সরল মনে বিশ্বাস করে নিজের অজান্তেই এগুলো ছড়ানোর কাজে আত্মনিয়োগ করে। ফলে সমাজে ও রাষ্ট্রে বিভিন্ন রকম অস্থিরতা, কখনো কখনো দাঙ্গারও মারামারি সৃষ্টি হয়। এ কারণে তথ্য প্রচার ও বিশ্বাসে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। যেকোনো তথ্য পেলেই তা ভালোভাবে যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়, শেয়ার করা তো অনেক পরের বিষয় হয়ে দাড়াই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, হে মুমিনগণ, কোনো ফাসেক যদি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে ভালোভাবে যাচাই করে দেখবে, যাতে তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো সমপ্রদায়ের ক্ষতি করে না বস। ফলে নিজেদের কৃতকর্মের কারণে তোমাদের অনুতপ্ত হতে না হয়। (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ৬) এখানে ফাসেকের খবর ভালোভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। কারণ সে সঠিক খবর নাও দিতে পারে। তা যাচাই না করা হলে মিথ্যা খবরের ফাঁদে পড়ে কারো ক্ষতি করা হয়ে যেতে পারে। ফলে কৃতকর্মের জন্য নিজেকেই তখন অনুতপ্ত হতে হবে। অনলাইনে যারা বিভিন্ন খবর প্রচার করে, এদের বেশির ভাগ মানুষকেই আমরা চিনি না জানিনা , ফলে তাদের খবরের ব্যাপারে তো আরো বেশি সতর্ক থাকা উচিত। কারণ যাচাই না করে খবর প্রচার করে নিজের মিথ্যাবাদী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকে। হাদিস শরিফে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে কোনো কথা শোনামাত্রই (যাচাই না করে) বলে বেড়ায় বা সকলের মাঝে প্রচার করে। (আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯২) তা ছাড়া কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রচার করার কারণে অনেক বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হওয়ার অবকাশ রয়েছে। যার জলন্ত প্রমাণ নবীজির যুগে রয়েছে। ওমর (রা.) ও তাঁর এক আনসারি সাথি পালাক্রমে রাসুল (সা.)-এর কাছে যেতেন। যেদিন যার পালা আসত সেদিনকার যাবতীয় খবর তিনি অপরজনকে পৌঁছে দিতেন। ওমর (রা.) বলেন, একদিন ওই সঙ্গী তার পালার দিন রাসুল (সা.)-এর কাছে গেল। রাতে ফিরে এসে আমার দরজায় খুব জোরে আঘাত করল। আমি ঘাবড়ে বের হওয়া মাত্রই সে বলল, বিরাট ব্যাপার ঘটে গেছে। জিজ্ঞেস করলাম, কী হয়েছে? গাসসান এসে গেছে? (সে সময় মদিনায় গাসসান কর্তৃক হামলার আশঙ্কা ছিল) বলল, না, এর চেয়েও ভয়াবহ ব্যাপার ঘটেছে। ‘রাসুল (সা.) তাঁর স্ত্রীদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন।’ ওমর (রা.) বলেন, ‘তাহলে তো হাফসা ধ্বংস ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেল। আমি ধারণা করছিলাম, অচিরেই এমন কিছু একটা ঘটনা ঘটতে পারে।’ এরপর তিনি মেয়ের কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন। বলেন, ‘কাঁদছ কেন? আমি কি তোমাকে সতর্ক করিনি? রাসুল (সা.) কি তোমাদের তালাক দিয়েছেন?’ সে বলেন, ‘আমি জানি না, তিনি ওই কোঠায় আছেন।’ এরপর ওমর (রা.) মিম্বরের কাছে গিয়ে দেখলেন, সেখানে এক জামাত সাহাবি উপস্থিত এবং কেউ কেউ কাঁদছেন। তিনি তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ বসলেন। কিন্তু উদ্বেগের কারণে স্থির থাকতে পারছিলেন না। পরপর তিনবার খাদেমের কাছে গিয়ে রাসুল (সা.)-এর কাছ থেকে তাঁর জন্য অনুমতি নিতে বলেন। খাদেম গিয়ে অনুমতি চাইলে রাসুল (সা.) তখন নীরব থাকেন। তৃতীয়বার যখন ওমর (রা.) ফিরে যাচ্ছিলেন তখন খাদেম তাঁকে ডেকে বলেন, আপনার অনুমতি মঞ্জুর হয়েছে। তিনি সালাম দিয়ে দাঁড়িয়েই জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার স্ত্রীদের কি তালাক দিয়েছেন?’ বললেন, ‘না।’ (বুখারি, হাদিস : ২৪৬৮) মূল ঘটনা ছিল, নবীজি (সা.) কোনো এক কারণে এক মাস স্ত্রীদের কাছে না যাওয়ার শপথ করেছিলেন এবং সে সময় তাঁর পা মচকে গিয়েছিল। তাই তিনি একটি কোঠায় অবস্থান করতে বাধ্য হন। একেই কেউ কেউ তালাক মনে করে প্রচার করেছেন সবার মাঝে। ওমর (রা.) এই খবরে উদ্বিগ্ন হলেও প্রচার করেননি। অথচ খবরদাতা ছিলেন তাঁর বিশ্বস্ত সাথি এবং মিম্বরের কাছে গিয়ে তিনি কতক সাহাবিকে কাঁদতেও দেখেছেন। উপরন্তু স্বয়ং নবীজিকেও উদ্বিগ্ন হতে দেখা গেছে। তার পরও তিনি নবীজিকে সরাসরি জিজ্ঞেস না করে তথ্যটি সকলের মাঝে প্রচার করেননি। যদি তিনি সেদিন নবীজির কাছে বিষয়টি স্পষ্ট না হয়ে শুধু পরিস্থিতির ওপর অনুমান করে খবরটি সকলের মাঝে প্রচার করতেন বা বিশ্বাস করতেন, তাহলে তিনি অবশ্যই ভুলের সাগরে ডুব দিতেন। মহান আল্লাহ সবাইকে আরো সতর্ক হওয়ার তাওফিক দান করুন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles