সোমবার, জুন ১৪, ২০২১

নিজগৃহে পরবাসী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশু

আমারে কইছে ঘর দিমু। তুই মাটি কাইটা দে। আমি মাটি কাইটা দিছি। পানি দিছি। মেলা কষ্ট করছি। চেয়ারম্যান,মেম্বাররাও কইছে তোর লাইগা সুপারিশ করছি। তোরে ঘর দেবো। পাকা ঘর অইলো। আমারে দিলো না। অহন মানষের বাড়িতে থাহি।’ কথাগুলো বলেছিল শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের গড়ের বাজারের পাশে খামারবাড়ির দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত (১৪) নামে এক শিশু।

সে জানায়, ৭-৮ বছর আগে তার বাবা মারা গেছে।বছর দেড়েক আরেক তার মা অন্যত্র বিয়ে করে ঘর বেঁধেছে। এখন তার দিন কাটে খেয়ে না খেয়ে। রাতে থাকতে হচ্ছে অন্যের বাড়ি।স্থানীয়রা জানান, এখানে ঘর ছিল। এ ঘরেই তার জন্ম।অথচ ওই ঘর ভেঙে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হতদরিদ্রদের জন্যে বরাদ্দকৃত অর্থায়নে নির্মিত হয়েছে পাকা ঘর। কিন্তু ওই পাকা ঘরে তার ঠাঁই হয়নি। নিজগৃহে পরবাসী দৃষ্টি প্রতিবন্দ্বী শান্ত। সোমবার সরেজমিন গেলে ওই শিশু ও তার প্রতিবেশীরা এভাবেই তুলে ধরেন তার ভিটেমাটি হারানো আর দু:সহ জীবনের গল্প।

জানা যায়, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত’র বাবা আফছার আলী ছিল খামারবাড়ির বাসিন্দা। তিনি পৈত্রিক সূত্রে এক খন্ড জমিতে দু’চালা একটি টিনের ঘরে বসবাস করতেন।গত ৭- ৮ বছর আগে দু’সন্তান রেখে মারা যান আফছার আলী। এরপর আফছারের স্ত্রী বিধবা ছাহেদা খাতুন কিছুদিন সেখানে ছিলেন। অবশেষে অভাবের তাড়নায় ছেলে শান্তকে রেখে ছোট মেয়ে সাথীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যান।মায়ের অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় সে পথও এখন বন্ধ। শান্ত’র নানাও দরিদ্র। সেখানেও তার ঠাঁই হয়নি।পেট চালাতো চেয়েচিন্তে। সহায়তা করতো তার কাকা, কাকি আর প্রতিবেশীরা। পড়ালেখার সুযোগ তার কখনোই হয়নি।

গত বছর অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীনদের জন্যে বরাদ্দ আসে প্রধানমন্ত্রীর উপহার একটি করে পাকা ঘর। ওই বাড়িতে শান্তসহ বসবাস করতো ৪টি পরিবার। এর মধ্যে ছিল শান্ত’র ঘর। বলা হয়েছিল তাকে পাকা ঘর দেয়া হবে। সেখানে নির্মাণ হয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৬টি পাকা ঘর। তবে তাকে ঘর দেওয়া হয়নি। এসব ঘর তুলে দেয়া হয় অন্যদেরকে। নিজভূমে পরবাসী হয় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শান্ত।

শান্ত’র কাকা সোলায়মান বলেন, ‘শান্ত চোহে দেহে না। কোনো কাজকামও করতে পারে না। কোনো মতে চলতে পারে। ওর অহন থাহার ঘর নাই।’কাকিলাকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান হামিদউল্লাহ তালুকদার বলেন,ওই শিশু যাতে ঘর পায়, এজন্য সুপারিশ করেছিলাম। কিন্তু ঘর দেয় নাই। অথচ ওইখানে তার ঘর ছিল।কাকিলাকুড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসার আতিকুর রহমান বলেন,সে শিশু এ জন্য তাকে ঘর দেয়া হয়নি। ঘর পেতে হলে পরিবারের আরো সদস্য থাকতে হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles