শনিবার, জুন ১৯, ২০২১

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস দ্বিতীয় ঢেউয়ের ব্যাপক আকার ধারণ করার কারণ

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ড. সমীর সাহা বলছেন, দেশে করোনার সংক্রমণ যখন নিম্নমুখী হয়েছিল, তখন সবার মধ্যে একটা ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সেজন্য সব ক্ষেত্রে ঢিলেঢালাভাব থাকার বিষয়টি এবার করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের তীব্রতার অন্যতম কারণ বলে তিনি মনে করেন। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্স নিয়ে বেশি গবেষণা করেছে চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশন।

দেশে গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছিল নিম্নমুখী। করোনাভাইরাসের প্রথম ঢেউ বাংলাদেশ সফলভাবে সামাল দিয়েছে বলে দাবির পর, এবার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

করোনা সংক্রমণের নিম্নমুখী অবস্থা থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে দেশে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়।এ ছাড়া ড. সমীর সাহা জানিয়েছেন, তাঁদের গবেষণায় আরও কয়েকটি কারণ তাঁরা পেয়েছেন।

আমাদের এখানে যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট এসেছে। এগুলোর বিস্তার হয়েছে সব জায়গায়। সব কিছু মিলিয়েই এই অবস্থা হয়েছে’, বলেন ড. সমীর সাহা।

ড. সমীর সাহা বলেছেন, এর বাইরে আরও কারণ থাকতে পারে। সেগুলো চিহ্নিত করে বিশদ গবেষণা করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) এর কর্মকর্তারাও তাঁদের গবেষণায় একই ধরনের কারণ দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

সানিয়া তাহমিনা বলেন, গবেষণা করার মতো প্রতিষ্ঠানের অভাব আছে। এবং মুশকিল হয়েছে যে, গবেষণাগুলোর ওপরও সাধারণ মানুষ এবং নীতি-নির্ধারকেরাও অনেক সময় পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারেন না। যার ফলে এই যে ভ্যারিয়ান্ট এসেছে—-এটা কিন্তু আমরা দুই-তিন মাস পর জানতে পারলাম।’

এদিকে, ভারতে কোভিড পরিস্থিতি যে খারাপ হচ্ছে, সে ব্যাপারেও বাংলাদেশের নজর রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিশ্লেষকেরা।ড. সমীর সাহা বলেছেন, ভারত, পাকিস্তানসহ এই উপমহাদেশে বড় আকারে করোনার ঢেউ এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞেরা ভারতে সংক্রমণের গতিবিধির দিকে নজর রাখছে।

সরকারের বিশেষজ্ঞ বা কারিগরি কমিটির প্রধান অধ্যাপক মো. শহীদল্লাহ বলেছেন, যখন আমাদের সংক্রমণ কমতে শুরু করল, তখনও আমরা বলেছি যে, আমাদের দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রতিরোধ ও হাসপাতালের সেবা—দুটি বিষয়েই প্রস্তুত থাকার কথা আমরা বলেছিলাম’, যোগ করেন অধ্যাপক মো. শহীদল্লাহ।অধ্যাপক মো. শহীদুল্লাহ আরও বলেন, এটাও আমরা পরিষ্কার বলেছি যে, এই মহামারি বিশ্ব থেকে কবে যাবে—এটা কেউ বলতে পারছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শের ভিত্তিতেই সংক্রমণের বিস্তার ঠেকাতে প্রথমে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়ে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। এরপর দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়া হয়।

এখন এই লকডাউনের মধ্যেই আগামীকাল রোববার (২৫ এপ্রিল) থেকে দোকানপাট ও শপিংমল খুলে দেওয়া হচ্ছে। এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, দুই সপ্তাহের লকডাউন ২৮ এপ্রিল শেষ হলে বিধি-নিষেধ আরও শিথিল করা হতে পারে। তিনি বলেছেন, জীবন ও জীবিকা বিবেচনায় নিয়েই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles