শনিবার, জুন ১৯, ২০২১

বেড়েছে নারী পুলিশ তবে নেতৃত্বে কম

‘পুলিশ’ শব্দটি মাথায় এলে ইউনিফর্ম পরা পুরুষ পুলিশের প্রতিচ্ছবিই মনে আঁকা হয়ে যায়। সহজেই চোখে ভাসে না কোনো নারী পুলিশের ছবি। তার পরও সব পেশায়ই নারীর অগ্রযাত্রার জয়ধ্বনি। পুলিশ বাহিনীতেও তাই। মেধা আর যোগ্যতার ছাপ রেখে প্রশাসনের চ্যালেঞ্জিং এই পেশায় বেড়েই চলছে নারীর অংশগ্রহণ। আশাজাগানিয়া খবর হলো, এখন বাংলাদেশ পুলিশের মোট জনবলের ৭.৯ শতাংশই নারী। বাহিনীতে নারী পুলিশের সংখ্যা ১৫ হাজার ১৬৩। তবে অংশগ্রহণ বাড়লেও পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্বের শিখরে নারী অনেকটাই কম। পুলিশ বাহিনীতে নারী প্রথম নাম লেখায় ১৯৭৪ সালে। ১৪ নারী পুলিশ সদস্য দিয়ে শুরু। এর মধ্যে সাতজন ছিলেন সাব-ইন্সপেক্টর, সাতজন কনস্টেবল। দীর্ঘ সময় পর ১৯৮৬ সালে এসে বিসিএস ক্যাডারে প্রথম নারী প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। কর্মক্ষেত্রে ধারাবাহিক সফলতা দেখিয়ে বর্তমানে নারী ডিআইজি রয়েছেন দুজন, অ্যাডিশনাল ডিআইজি তিনজন, পুলিশ সুপার ৭১ জন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১০৯ জন ও সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন ১০০ জন। এ ছাড়া নারী ইন্সপেক্টর রয়েছেন ১০৯, এসআই ৭৯৭, সার্জেন্ট ৫৮, এএসআই এক হাজার ১০৯, নায়েক ২১১ এবং কনস্টেবল ১২ হাজার ৫৯৪ জন। এর মধ্যে দেশের পাঁচ জেলা কুড়িগ্রাম, বান্দরবান, ঝালকাঠি, গোপালগঞ্জ ও লালমনিরহাটের দায়িত্বে আছেন নারী পুলিশ সুপার। জেলার দায়িত্বে নারী এসপি কম কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার আবিদা সুলতানা বলেন, ‘নারী হিসেবে আমার কোনো কাজে বাধা আসেনি। জেলার দায়িত্ব নেওয়ার মতো যোগ্যতা ও সক্ষমতা নারীদের আছে। এ জন্য নারীদের আরো সম্মুখে এসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আইজিপি হওয়ার স্বপ্ন দেখেন কি না জানতে চাইলে পুলিশ সুপার আবিদা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যেখানে দেশ চালাচ্ছেন। সেখানে আমাদের পেছন ফিরে দেখার সময় নেই। অবশ্যই আইজিপি হওয়ার স্বপ্ন দেখি।’ এদিকে কর্মক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ‘উইমেন পুলিশ অ্যাওয়ার্ড’, ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক , ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক’ এ ভূষিত হচ্ছেন অনেক নারী পুলিশ। পুলিশের বিশেষ শাখা, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা সংস্থা, অপরাধ তদন্ত বিভাগেও উচ্চপদেও কর্মরত আছেন অনেকেই। দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সক্ষমতা থাকার পরও নারী পুলিশের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কেন বাড়েনি জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তরের স্টেট শাখার উপকমিশনার আসমা সিদ্দিকা মিলি বলেন, ‘এই লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে কনস্টেবল ও সাব-ইন্সপেক্টর পদে নারীর অংশগ্রহণ আরো বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সেটার জন্য আরো সময় লাগবে।’ পুলিশে নারী ও নেতৃত্বের জায়গাটা কিভাবে মূল্যায়ন করেন জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মাহমুদা আফরোজ লাকী বলেন, ‘একটি মেয়ে বা বাড়ির বউ পুলিশের পোশাক পরে রাস্তায় ডিউটি করবে, এটি সহজভাবে নিতে সমাজ এখনো প্রস্তুত নয়। যদিও এসব উপেক্ষা করে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়, সমাজে গ্রহণযোগ্যতা, পারিবারিক মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠায় এগিয়েছে নারীরা। এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইচ্ছাশক্তি, লড়াই করার মনোবল ও অপরকে সাহায্যে করার মানসিকতা থাকলেই যথেষ্ট। নেতৃত্বের জায়গায় আসতে মানসিকতা বদলাতে হবে।’ গুলশান থানার এসআই সিনথিয়া আক্তার বলেন, ‘এখন অভিভাবকরাই স্বপ্ন দেখেন চ্যালেজিং পেশায় মেয়েরা আসবে। আমার বাবাও আমাকে পুলিশে দেখতে চেয়েছিলেন। যখন ডিউটি অফিসার হিসেবে কাজ করি, অনেক অভিভাবক এসে দেখে খুশি হন। তাঁদের মেয়েটাও পুলিশ হবে—এমন স্বপ্ন দেখেন। এ জন্য সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে পুলিশে নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে।’ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জরিপ অনুযায়ী, ২০১১ সালে নারী পুলিশের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার ৪০। ২০১৭ সালে সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১ হাজার ৯১৫। সম্প্রতি পুলিশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, ২০১৫ সালের মধ্যে নারী পুলিশ পুরো বাহিনীর ১৫ শতাংশে পৌঁছানোর লক্ষ্য ছিল। ছয় বছর পর ২০২১ সালে এসে পুলিশ বাহিনীতে নারী পুলিশের সংখ্যা এখন লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক ৭.৯ শতাংশ। পুলিশে নেতৃত্বের জায়গায় নারীর অবস্থান কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পুলিশে নারী নেতৃত্বের হার খুব কম। নারী চ্যালেঞ্জ নিতে পারবে—এমন মানসিক অবস্থানে এখনো সমাজ আসেনি। এ জন্য মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। পুলিশে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে আইজিপি পরামর্শ দিয়ে বলেন, থানা পর্যায়ে নারী ও শিশুদের জন্য আলাদা ডেস্ক করা হয়েছে। এসব ডেস্ক পরিচালনার জন্য নারী সদস্য প্রয়োজন। প্রয়োজনে স্কুল-কলেজে গিয়ে ‘উইমেন লাইফ ইন পুলিশ’ ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করতে হবে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles