মঙ্গলবার, জুন ১৫, ২০২১

কালোটাকার ঢল নেমেছে করোনাকালে

করোনাকালেও লুকানো টাকা দেখানোর উৎসব থামেনি। মানুষ যখন জীবিকার সংকটে ভুগছে, তখন প্রায় ১০ হাজার করদাতা কালোটাকা সাদা করেছেন। আর নগদ টাকাই সাদা হয়েছে বেশি। অন্তত নগদ বা ব্যাংকে থাকা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা সাদা হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় শেয়ারবাজার, জমি-ফ্ল্যাট, ব্যাংক-সঞ্চয়পত্রে রাখা টাকা ও নগদ টাকা—সব ধরনের অবৈধভাবে উপার্জিত টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। শুধু তা–ই নয়, কালোটাকা সাদা করলে এনবিআর ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ অন্য কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে জবাবদিহি করতে হবে না—এমন ঘোষণাও দেওয়া হয়।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের মতে, কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক, নৈতিকতা পরিপন্থী ও দুর্নীতি সহায়ক।

কত টাকা সাদা

গত জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে শেয়ারবাজার, নগদ টাকা কিংবা জমি-ফ্ল্যাট কিনে সব মিলিয়ে ৯ হাজার ৯৩৪ জন কালোটাকা সাদা করেছেন। তাঁদের মধ্যে জমি-ফ্ল্যাট কিনে কিংবা নগদ টাকা সাদা করেছেন ৯ হাজার ৬২৩ জন। চলতি বছরে এনবিআরে জমা দেওয়া বার্ষিক আয়কর বিবরণীতে কালোটাকার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি নগদ বা ব্যাংক-সঞ্চয়পত্রে গচ্ছিত টাকা ঘোষণায় এসেছে। এত দিন এই বিপুল পরিমাণ টাকা তাঁরা তাঁদের কর নথি দেখাননি। নগদ টাকা সাদা করার সুযোগ থাকায় এবার ফ্ল্যাট বা জমি কিনে টাকা সাদা করার প্রবণতা একদম কম।

মন্দা শেয়ারবাজারে চাঙা করতে শেয়ার কিনে এক বছর ‘লক ইন’ বা বিক্রি নিষেধাজ্ঞার শর্ত দিয়ে শেয়ারবাজারে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়।

চিকিৎসকেরা বেশি সাদা করেছেন

এনবিআরের তথ্য–উপাত্ত ঘেঁটে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি কালোটাকা সাদা করার সুযোগ নিয়েছেন ঢাকার কর অঞ্চল-১০–এর করদাতারা। এই কর অঞ্চলের ৬১০ জন করদাতা প্রায় এক হাজার কোটি টাকা সাদা করেছেন। তাঁদের প্রায় শতভাগই চিকিৎসক, তাঁরা নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা সাদা করেছেন।

কর অঞ্চল-১০ কমিশনার লুৎফুল আজীম এ বিষয়ে বলেন, চিকিৎসকদের অনেকেই ক্লিনিকে রোগী দেখা, পরামর্শক সম্মানীসহ বৈধভাবে টাকা উপার্জন করেছেন। কিন্তু এত দিন আয়কর বিবরণীতে দেখাননি। এবার আমরা এমন অনেক চিকিৎসককে এই অর্থ ঘোষণা দেওয়ার জন্য নানাভাবে অনুপ্রাণিত করেছি।

দ্বিতীয় স্থানে আছে কর অঞ্চল-১। এই কর অঞ্চলের ৪৭৮ জন করদাতা কালোটাকা সাদা করেছেন। এই কর অঞ্চলে বেতনভুক্ত কর্মকর্তা বেশি। এ ছাড়া ঠিকাদারেরাও আছেন।

টাকা সাদা করায় তৃতীয় স্থানে আছেন কর অঞ্চল-২–এর করদাতারা। এই কর অঞ্চলের ৪১২ জন করদাতা টাকা সাদা করেছেন। ইসলামপুরসহ পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীরা এই কর অঞ্চলের করদাতা।

তাহলে দেশের বড় করদাতারা কি কালোটাকার মালিক নন? তাঁরাও টাকা সাদা করায় শামিল হয়েছেন। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) ৭০৬ জন বড় করদাতা নিবন্ধিত। তাঁরা বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, ব্যাংক-বিমার পরিচালক। তাঁদের মধ্যে এবার ২৬ জন কালোটাকা সাদা করেছেন। এই ২৬ জন প্রায় ৮৪ কোটি টাকা কর দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম অঞ্চলের তিনটি কর অঞ্চল থেকে ৮৪৭ জন করদাতা এই সুযোগ নিয়েছেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে সবচেয়ে বেশি—৫৩৮ জন কুমিল্লার করদাতা কালোটাকা সাদা করেছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles