শনিবার, জুন ১৯, ২০২১

করোনায় যমজের মৃত্যু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে: ভারতে

১৯৯৭ সালের ২৩ এপ্রিল। এ দিনের কথা রেমন্ড রাফায়েলের এখনো মনে আছে। কারণ, এদিনে তাঁর স্ত্রী সোজা জন্ম দিয়েছিলেন যমজ ছেলেসন্তান।

জোফ্রেড ও রালফ্রেডের বেড়ে ওঠা, পড়ালেখা—সবই একসঙ্গে। তাঁরা দুজনই পড়াশোনা করেছেন কম্পিউটার প্রকৌশলে। আর চাকরিও নিয়েছিলেন একই সঙ্গে ভারতের হায়দরাবাদে। আর মৃত্যুও হলো একসঙ্গে। মৃত্যুর কারণ, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ।

জোফ্রেড ও রালফ্রেডের বাবা রেমন্ড বলেন, তাঁদের একজনের সঙ্গে যা ঘটে, অন্যজনের সঙ্গে ঠিক তা–ই ঘটে। তিনি জানান, জন্মের ঠিক ২৪ বছর ১ দিন পর একই দিনে, অর্থাৎ গত ২৪ এপ্রিল তাঁরা দুজনই করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর ১৩ মে একজন মারা যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর ১৪ মে আরেকজন মারা যান।

রেমন্ড বলেন, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, জোফ্রেড মারা গেছে। রালফ্রেডও একা আর বাড়ি ফিরতে পারবে না। এর কয়েক ঘণ্টা পরই রালফ্রেড মারা যায়।’ তিনি বলেন, ‘ওরা দুজন আমাদের জন্য অনেক কিছু করার পরিকল্পনা করছিল। শিক্ষক হিসেবে আমরা অনেক কষ্ট করেছি ওদের বড় করার জন্য। ওরা তার প্রতিদান দিতে চেয়েছিল।’

জোফ্রেড ও রালফ্রেডের চিকিৎসা প্রথমে বাসায় রেখেই হচ্ছিল। একসময় লক্ষ করলাম, তাদের অক্সিজেন লেভেল ৯০-এ নেমে এল। ১ মে দুজনকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।’ তিনি জানান, প্রথম পরীক্ষায় কোভিড-১৯ পজিটিভ আসার পর দ্বিতীয় পরীক্ষায় (আরটি-পিসিআর) নেগেটিভ আসে।

রেমন্ড বলেন, ‘এরপর চিকিৎসকেরা পরিকল্পনা করছিলেন তাদের কোভিড ওয়ার্ড থেকে সাধারণ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার। আমি বলেছিলাম, তাদের আরও দুদিন কোভিড ওয়ার্ডে রেখে অন্য কোথাও নেওয়া হোক। কিন্তু ১৩ মে সবকিছু ভেস্তে যায়।’

রালফ্রেড মৃত্যুর আগে হাসপাতাল থেকে শেষ ফোনকলটি করেছিল তাঁদের মায়ের কাছে। রেমন্ড জানান, রালফ্রেড তাঁর মাকে বলেছিলেন, তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন। তিন জোফ্রেডের স্বাস্থ্যের খবর জানতে চেয়েছিলেন। এরপর জোফ্রেড মারা যান। আমরা তাকে বলি, জোফ্রেডকে দিল্লির হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে বুঝতে পেরেছিল, আমরা তাকে মিথ্যা বলছি। রালফ্রেড তার মাকে বলেছিল, “তোমরা মিথ্যা বলছ।”

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles