শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১

স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা আসেনি বেনাপোলে: ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ নিয়ে সতর্কবার্তা

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়া ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ যেন কোনোভাবেই দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সতর্ক নজর রাখছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ভারতীয় ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ ও প্রতিরোধে বন্দর এলাকায় জরুরি ব্যবস্থা নিতে স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে এখনো অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পায়নি যশোরের বেনাপোল বন্দর কর্তৃপক্ষ বা শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

ভারত বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী বিধায় প্রতিনিয়তই ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাতায়াত প্রায় বন্ধ। কিন্তু ভারতে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিনই আসছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট অথবা ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে’র আশঙ্কা দূর হয়নি। আবার ভারত থেকে ট্রাকে করে মালামাল নিয়ে বাংলাদেশে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা আসছে। বাংলাদেশ থেকে ভারত সীমান্তে ট্রাক নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি ড্রাইভাররা। তাদের থেকেও ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ বাংলাদেশে প্রবেশের সুযোগ রয়েছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, আমরা সরকারি স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্দরের কার্যক্রম চালাচ্ছি। ওপারের ট্রাক চালক, হেলপার, শ্রমিক সংগঠনগুলোকে করোনার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) মামুন কবীর তরফদার বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো চিঠি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে আমাদের কাছে আসেনি। তারপরও আমরা বন্দর এলাকায় সতর্কতার সাথে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছি।

শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার ইউসুফ আলী জানান, ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ প্রতিরোধে বন্দর এলাকায় বাড়তি কোনো সতর্কতার বিষয়ে স্বাস্থ্যবিভাগ থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা আসেনি। তবে করোনা প্রতিরোধে বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় ট্রাক শ্রমিকদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পরেই দেশে প্রবেশের জন্য বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলা হয়েছে।

ভারতে একদিকে তাণ্ডব চালাচ্ছে করোনাভাইরাস। অন্যদিকে এখন নতুন করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে মিউকরমাইসিসিস বা ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’। মে মাসের প্রথমদিকে ভারতের চিকিৎসকরা এ ব্যাপারে সতর্ক করা শুরু করেন। মূলত সুস্থ্য হয়ে ওঠার পরও অনেকের ইমিউন সিস্টেম অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন লোকজনই নতুন এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। এ ছাড়া এ রোগে আক্রান্তের তালিকায় রয়েছেন ডায়াবেটিসের রোগীরাও।

মিউকরমাইকোসিস বা ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ করোনা মহামারির মধ্যেই গুজরাট, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা, দিল্লি ও পশ্চিমবঙ্গে ঝুঁকি প্রবল করে তুলেছে। সেই সঙ্গে গোটা ভারতকেই ঠেলে দিয়েছে প্রবল সংকটের মুখে। দেশটির ২৯টি রাজ্যে একে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ বহনকারী ছত্রাক বাতাসে উড়ে বেড়াতে সক্ষম। কোভিড আক্রান্ত বা কোভিড থেকে সুস্থ্য হওয়া কারও শরীরে কিংবা যাদের ডায়াবেটিস, ক্যান্সার আছে তাদের শরীরে খুব সহজেই এই ছত্রাক আক্রমণ করছে। নাক, কান, গলা ইত্যাদির ভেতর দিয়ে সহজেই দুর্বল মানুষের শরীরে এই সংক্রমণ ঘটছে।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles