শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১

আবারো ২ সপ্তাহ ‘লকডাউন’ বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা

করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি এখনো দুর্বোধ্য। এ অবস্থায় চলমান সীমিত পর্যায়ের ‘লকডাউনের’ সময়সীমা আরো বাড়ানো হবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় সরকার। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখনই সব বিধি-নিষেধ তুলে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও আরো অন্তত দুই সপ্তাহ চলমান বিধি-নিষেধ বহাল রাখার পক্ষে।

গত শুক্রবার রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে গত ২৫ মে থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সাত দিনের বিশেষ লকডাউন চলছে। এ অবস্থায় সীমিত আকারে চলমান লকডাউন আরো বাড়ানোর বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে সরকার।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী চলমান সীমিত পর্যায়ের লকডাউন আজ রবিবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন যে ঢিলেঢালা লকডাউন নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি ভালো কাজ করছে। তাই এটি আরো কিছুদিন চলা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এম এ ফয়েজ গতকাল বলেন, ‘সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকলেও আমরা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নই। পরিস্থিতি এখনো দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রয়েছে। তাই এখনই বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামলে মোটামুটি স্বাভাবিক হওয়ার চিন্তা করা যায়।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মী ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সরকারি অফিস খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় গত মার্চে। ৫ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে লকডাউন দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়সীমায় লকডাউন চলেছে। একাধিকবার নিয়ম পাল্টানোর মাধ্যমে আজ রবিবার ৫৬ দিনের লকডাউন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি অফিস, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ বন্ধ রয়েছে। শপিং মল, দোকানপাট খোলা আছে। অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে চলছে গণপরিবহন। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি ব্যাপকভাবে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে মাঠে নেমেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢিলেঢালা লকডাউনের সঙ্গে কড়াকড়িভাবে অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করার চিন্তা করছে সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকেও সব কিছু এখনই স্বাভাবিক হওয়ার সময় আসেনি বলে মনে করা হচ্ছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পক্ষেই বেশি সুপারিশ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles