শুক্রবার, জুন ১৮, ২০২১

দরিদ্রদের হাহাকার কিন্তু ধনী দেশে টিকার মজুদ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নভেল করোনাভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি মোকাবেলায় টিকার ওপর ধনী দেশগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্যের সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল রবিবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা দরিদ্র দেশগুলো টিকার জন্য হাহাকার করছি আর ধনী দেশগুলো সব টিকা কিনে বসিয়ে রেখেছে।’

সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে উদ্ধৃত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দরিদ্র দেশগুলো মাত্র ০.৩ শতাংশ টিকা পেয়েছে। বাকি ৯৭.৭ শতাংশ ধনী দেশগুলো রেখে দিয়েছে।

ড. মোমেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিনই বলেছেন, টিকা জনগণের সম্পদ হওয়া উচিত। আমরা এ জন্য টাকাও দিয়েছি। এর ব্যবহার যেন সব দেশই করতে পারে। কোথাও যেন বৈষম্য না হয়।’

বাংলাদেশে কভিড পরিস্থিতি অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো হওয়ায় টিকা পাওয়ার অগ্রাধিকারের তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকার ব্যাপারেও ইঙ্গিত করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কভিডের ক্ষেত্রে প্রথমে আমরা সফল হওয়ায় এক ঝামেলা হলো। আমরা বেশ কষ্ট করে তাদের কাছে সাহায্য চেয়েছি। এখন তারা বলছে, বাংলাদেশকে দেবে। ঠিক কত দেবে, তা এখনো বলেনি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমাদের তো দরকার অনেক টিকা। আমার সাড়ে ১৬ কোটি মানুষ। ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ১৩ কোটি লোককে টিকা দিতে আমার ২৬ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। এটি অনেক বড় একটি বাজার।’

চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়নি : টিকার দাম প্রকাশ করার ইস্যুকে ইঙ্গিত করে চীনের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তা নাকচ করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চীনের একটি কম্পানি থেকে টিকা কিনবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রাইভেট কম্পানি কী করে না করে, সেটি তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। তবে কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’

চীনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে টিকা উৎপাদন কত দূর জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে বলেছিলেন, কম্পানির লোক ফিল্ড ভিজিটে আসবে। তারা এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবে কোন ফ্যাক্টরি, কার উৎপাদন করার সক্ষমতা আছে। সরকার এ বিষয়ে জানে না। বিষয়টি এ পর্যায়েই আছে।’

পররাষ্ট্র যোগাযোগ করে দিয়েছে, বাকি দায়িত্ব স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের : পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, টিকার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসগুলো বিদেশিদের সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছে।

টিকা কবে আসবে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কখন হবে না হবে, এটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলবে। এখন বাকিটুকু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়দায়িত্ব।’

দ্রুত অর্ধকোটি ডোজ স্পুতনিক ভি টিকা কিনতে চায় বাংলাদেশ : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে দ্রুত ৫০ লাখ ডোজ করোনার টিকা স্পুতনিক ভি  আমদানি করতে চায়। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার আই ইগনাতভ গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিদায়ি সাক্ষাৎ করতে গেলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, অনুমোদন পেলে বাংলাদেশের কয়েকটি কম্পানি রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে টিকা উৎপাদন করতে পারবে। তিনি রাশিয়া থেকে দ্রুত করোনার টিকা আমদানির ক্ষেত্রে বিদায়ি রাষ্ট্রদূতের সহযোগিতা কামনা করেন।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles