বুধবার, জুন ২৩, ২০২১

‘ওকি গাড়িয়াল ভাই…’ গাইলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে নদীবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গান গেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, নদীবন্দর নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে একনেক। এ প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই… হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে রে’ এই ভাওয়াইয়া গানটির কয়েকটি লাইন গেয়ে শুনিয়েছেন।

গতকাল ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান।

সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চিলমারী নিয়ে একটা গান আছে, ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই… হাঁকাও গাড়ি তুই চিলমারীর বন্দরে রে’। আপনারা এই গানটা কেউ জানেন?

এ সময় মন্ত্রিসভার এক সদস্য বলেন, ‘গানটি আমি জানি কিন্তু, গানটি গাওয়া শুরু করলে এখানে কেউ বসে থাকতে পারবে না।’

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘চিলমারী এলাকায় (রমনা, জোড়গাছ, নয়ারহাট) নদীবন্দর নির্মাণ’ প্রকল্পটি ২৩৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। একনেক সভায় ৬ হাজার ৬৫১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৯৮ কোটি ৩ লাখ এবং বিদেশি ঋণ ৬৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নয়টি প্রকল্প নতুন এবং একটি সংশোধিত। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘মধুপুর-ময়মনসিংহ জাতীয় মহাসড়ক (এন-৪০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পটি ১ হাজার ১০৭ কোটি ১৭ লাখ টাকা খরচে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের ‘বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পটি ২১৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা খরচে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘ঠাকুরগাঁও জেলার টাঙ্গন ব্যারাজ, বুড়িবাঁধ ও ভুল্লিবাঁধ সেচ প্রকল্পসমূহ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ ও সম্মিলিত পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পটির খরচ ২৯৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘জৈব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিবীজ উন্নয়ন ও বর্ধিতকরণ’ প্রকল্পটির খরচ ৭২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ‘বাখরাবাদ-মেঘনাঘাট-হরিপুর গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণ’ প্রকল্পটির খরচ ১ হাজার ৩০৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্পটি হলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘বিপিএটিসি’র প্রশিক্ষণ সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ’ প্রকল্প। এটির প্রথম সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে প্রকল্পটির খরচ ৩৪৮ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ২০৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের জুনে বাস্তবায়ন করার কথা থাকলেও এর মেয়াদ তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলে সাইলো নির্মাণের নির্দেশ : দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বেশি করে সাইলো নির্মাণ করার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব অঞ্চলে ধান বেশি উৎপাদন হওয়ায় তা সংরক্ষণের বিষয়টি চিন্তায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন দক্ষিণাঞ্চলে যেন বেশি করে সাইলো করা হয়। ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা- এসব জায়গায়। এসব জায়গায় প্রচুর ধান হয়। একনেক সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৩০টি সাইলো নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পাস হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর আরও নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, স্লুইসগেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আপত্তি আছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এটা ঠিক নয়। মূল কথা হলো পানির প্রবাহে অস্বাভাবিক কোনো বাধা সৃষ্টি করবেন না। মন্ত্রী বলেন, আলু রপ্তানির চেষ্টা করতে হবে। আলুতে সমস্যা হওয়ার কারণে বিদেশিরা কিনতে চায়নি।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles