বুধবার, জুন ২৩, ২০২১

অক্সিজেন বন্ধের পর ২২ জনের মৃত্যু অচল ছিল সিসিটিভি

হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে অক্সিজেন ছাড়া কারা বাঁচতে পারছেন আর কারা পারছেন না, সেটা দেখতে পাঁচ মিনিটের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ রেখে পরীক্ষা চালাচ্ছিলেন ভারতের আগরার শ্রী পরশ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই ‘মহড়ার’ বলি হতে হয়েছে ২২ জনকে। এ ব্যাপারে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন মৃত মুন্নি দেবীর কন্যা প্রিয়াঙ্কা। তিনি জানান, ঘটনার দিন রিসেপশন ডেস্ক-সহ হাসাপাতালের অর্ধেকেরও বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা নাকি বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের অক্সিজেন সঙ্কটের কথা জানানো হয় বলে জানান প্রিয়াঙ্কা। তার অভিযোগ, মুন্নি দেবীকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছে বলে জানানো হলেও তার গায়ে ইঞ্জেকশনের কোনো চিহ্নই ছিল না!  প্রিয়াঙ্কার কথায়, আমিও একটি হাসপাতালে কাজ করি। আমার মাকে করোনা ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হলেও করোনার কোনো ওষুধই তাকে দেওয়া হয়নি। আমাদের যদিও ওষুধ কিনে চিকিৎসকের হাতে দিতে বলা হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে এই চরম অবহেলার অভিযোগে এবার আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্তই নিয়েছেন প্রিয়াঙ্কা। ‘মহড়ার’ জেরে ২২ জন করোনা রোগীর মৃত্যুর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই হাসপাতালটিকে সিলগালা করে দিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জয় প্রতাপ সিং বলেন, আগরার পরশ হাসপাতালে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় এরই মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকারের কাছে ওই রিপোর্ট জমা পড়লে আগামী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান মেডিক্যাল অফিসার বীরেন্দ্র ভারতী এবং সঞ্জীব বর্মনকে আগামী দু’দিনের মধ্যে ওই তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে তাকে মহড়ার কথা স্বীকার করে নিতে দেখা গেলেও এখন হাসপাতালটির মালিক অরিঞ্জয় জৈনের দাবি, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। হাসপাতালে এ ধরনের কোনো মহড়াই চালানো হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে অবশ্য তার এখনকার দাবির বিরুদ্ধেই প্রমাণ দিচ্ছে। সেখানে অরিঞ্জয়কে বলতে শোনা গেছে, মোদীনগরে অক্সিজেন সরবরাহে টান দেখা দিয়েছিল। রোগী কমানোর নির্দেশ এসেছিল। তবে অনেক পরিবারই রোগী ফিরিয়ে নিতে রাজি হচ্ছিল না। আমি তখন ভাবলাম, ‘মক ড্রিল’ করে দেখা যাক, অক্সিজেন ছাড়া কে কে বাঁচতে পারছেন। সকাল ৭ টা নাগাদ পাঁচ মিনিটের জন্য গোটা হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। বিষয়টি কেউ জানত না। দেখা যায়, সঙ্গে সঙ্গে ২২ জন সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়েছেন। নীল হয়ে যাচ্ছেন। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই মারা যান তারা। তবে আচমকা হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন সেখানে ভর্তি রোগীদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের মধ্যেই একজন লাল কুমার চৌহান। তার বক্তব্য, দিন ১৫ আগে আমার এক আত্মীয় এখানে ভর্তি হন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি। তা সত্ত্বেও ফাইল হাতে পেতে আমাদের ডিসচার্জের নথিতে সই করতে বলা হয়েছে। এখন রোগীকে কোথায় নিয়ে যাব বুঝতে পারছি না।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles