শনিবার, জুলাই ২৪, ২০২১

প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার : প্রয়োজন আইনের প্রয়োগ ও নজরদারী

কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিরুদ্ধে করা কুৎসিত প্রচারণা। এ বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির পক্ষে সরকারের পক্ষ থেকে নির্দেশনা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানগুলো পুরোপুরি সাফল্য দেখাতে পারছে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সরকারের মন্ত্রী পরিষদের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যসহ পুরো সরকার ও রাষ্ট্রকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে। আর এক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ভিডিও স্ট্রিমিং সাইটগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সরকারকে বিব্রত করতে সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীকে নিয়ে অনলাইনে ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের ভেতরে ও বাইরে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে তাদের। বিশেষ করে বহির্বিশ্বে সরকারের ‘ইমেজ’ নষ্ট করতে দেশের বাইরে থেকেই চালানো হচ্ছে এসব অপপ্রচারের বড় অংশ।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, যারা এমন অপরাধ করছেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হলে অন্যরা নিরুৎসাহিত হবেন। আইসিটি অ্যাক্টের ৪ ধারায় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনেও এমন বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে সাইবার জগতে ডিজিটাল নজরদারী বাড়াতে হবে।

জোহা বলেন, বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে কে কী পোস্ট করছেন, প্রধানমন্ত্রী বা এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কে কী মন্তব্য করছেন, পোস্ট করছেন এগুলোতে আরও বেশি নজরদারী আনতে হবে। এ ধরনের অপরাধ তদারকিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সহ সংশ্লিষ্ট আরও কিছু সংস্থা নিয়ে একটি মনিটরিং সেল রয়েছে। তবে তাদের কাছে এ ধরনের প্রাযুক্তিক সক্ষমতা নেই। তবে তারা নিজেদের মতো করে ‘টার্গেট’ নির্ধারণ করে কাজ করে। আমার পরামর্শ হলো, পুরো বিষয়টি যেন এই মনিটরিং সেল করতে পারে তার জন্য এটিকে আরও শক্তিশালী করা, যেন কেউ কোনো ডিজিটাল মাধ্যমের কোথাও একটি মন্তব্য বা পোস্ট করলেই সাথে সাথে তার সবরকম তথ্য যেমন- তার বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান, পেশা ইত্যাদি সবকিছু যেন মনিটরিং সেলের কাছে চলে আসে।

তবে এমন মতামত থেকে কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, যেসব সংস্থার কাছে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স আছে তারা তো আমাদের কাছে প্রতিবেদন পাঠায়ই। আর আমরা সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিই। এখন এ ধরনের সেটআপ নিয়ে এলে একই কাজ দুইবার করা হবে।

ফেসবুক, ইউটিবের মতো প্ল্যাটফর্ম এ ধরনের বিষয়ে সরকারকে কতটা সহযোগিতা করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মোস্তাফা জব্বার বলেন, ফেসবুক, ইউটিউব বা গুগল তারা তাদের নিজেদের ‘কমিউনিটি গাইডলাইন্স’ এর দোহাই দিয়ে আমাদের খুব একটা সাহায্য করতে চায় না। কিন্তু কারা এটা করলো, এর পেছনে আরও কারা কারা আছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেশিরভাগ সময় আমাদের নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স থেকেই সংগ্রহ করতে হয়।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর আইন প্রণয়নের কথা ভাবছে বলে জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন বিষয় ছড়ানো হয়। প্রস্তাবিত আইনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রেখে দেশে সেসব যোগাযোগ মাধ্যমের অফিস স্থাপনেরও বিধান রাখা হবে। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, তুরস্ক এ ধরনের আইন করেছে। উন্নত বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে এই আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে।

একইসঙ্গে এমন অপপ্রচারমূলক কন্টেন্ট শেয়ার, লাইক বা কমেন্ট করা থেকে বিরত থেকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। পলক বলেন, অন্য কেউ যদি এগুলো দেখে পোস্ট বা লাইক শেয়ার না করে, তাহলে কিন্তু এটা ছড়ায় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা আক্তার বলেন, সামাজিক এই যোগাযোগমাধ্যম তৈরি করা হয়েছিল যাতে এর ব্যবহারকারীরা অর্থনৈতিক-সামাজিক উন্নয়ন ও বুদ্ধিভিত্তিক কোনো বিষয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দিতে পারেন। সমাজবিজ্ঞানী হিসেবে আমি মনে করি, কুৎসা রটানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করা উচিত নয়। যেখানে মূলধারার গণমাধ্যম একটি বিষয়ে গবেষণা করে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরে সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো তথ্যনির্ভরতা নেই। এক্ষেত্রে কারা সামাজিক মাধ্যমে তথ্য দিচ্ছেন এবং এর বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কেও আমাদের নিশ্চিত হতে হবে। কিছু ক্ষেত্রে সরকারের জন্য কোড অব কনডাক্ট দেওয়া সমস্যার। কারণ এটি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। যে কোনো তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যম যাই হোক না কেন এটি খুব তথ্যবহুল হতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষার ব্যবহার সম্পর্কেও ব্যবহারকারীকে সচেতন হতে হবে। ভাষাটি যেন শোভন হয় তা লক্ষ্য রাখতে হব।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

22,042FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -

Latest Articles